দেশে ফিরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন ২৮ নাবিক

ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর তীরের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলার শিকার বাংলাদেশেরজাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র নিহত নাবিক হাদিসুর রহমানের মরদেহ এক সপ্তাহের মধ্যে ফিরিয়েআনা হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আর রকেট হামলায় অক্ষত থাকা জাহাজটির ২৮ নাবিক প্রায় এক সপ্তাহ পর দেশেফিরে আসার পর নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন বলে জানিয়েছেন। কারণ, সেই অলিভিয়া বন্দরেএখনও সেখানে বিভিন্ন দেশের জাহাজে আটকা পড়ে আছেন হাজারো নাবিক।

বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিককে নিয়ে বুধবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টা ১৫মিনিটে টার্কিস এয়ারের টিকে-৭২২ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেঅবতরণ করে। সেখানে তারা ভিআইপি লাউঞ্জে বসে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সারেন।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে বিমানবন্দরের বাতাস ভারি হয়ে উঠে বাংলার সমৃদ্ধি’রথার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাইয়ের আহাজারিতে। ‘ওরে আমার বাবা,আইলো না’ চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন হাদিসুর রহমানের বৃদ্ধ বাবা-মা।

মৃত হাদিসের জন্য আর্তনাদ করতে থাকেন তার ভাই। তার চোখে এখনো ভাসছেজীবিত নাবিক ভাইয়ের ছবি। মৃত্যুর আগে তার সঙ্গেই কথা বলছিলেন হাদিস। ইউক্রেন যুদ্ধেনিহত নাবিক হাদিছুর রহমানের ভাই এখনো মানতে চান না তার ভাই আর নেই।

বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের বাইরে যখন এ আর্তনাদ তখন ২৮ বাংলাদেশিনাবিক। টার্কিশ এয়ারের একটি বিমানে তারা রোমানিয়া থেকে দেশে ফেরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বলছে, ইউক্রেন অলিভিয়া বন্দরে বিশ্বের প্রায় দেড়শ’ জাহাজ আটকে থাকলেও কোন বাংলাদেশিআটকে নেই।

একই কথা জানিয়ে জাহাজের নাবিকরা জানিয়েছেন, দেশে ফিরতে পেরে নিজেদেরভাগ্যবান মনে করছেন তারা। জানিয়েছেন, অলিভিয়া বন্দরে বহু বিদেশি জাহাজ আটকে আছে। উদ্ধারেরঅপেক্ষায় আছে হাজার হাজার নাবিক।

সাগরের ওই বন্দর এলাকায় রাশিয়া মাইন পুঁতে রাখায় কোন জাহাজটি বের করাযাচ্ছে না। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোলাগুলির মধ্যে নাবিকদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছেচরম আতঙ্কে। সেই কারণেই দেশে ফিরতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন ২৮ নাবিক।


বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশে ফেরা ২৮ নাবিক শারীরিক চেকআপ শেষে বাসায়ফেরেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে দুইটায় ফ্লাইটিতে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন নাবিকরা। রোববার বেলা ১১টার দিকে তারা ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে মালদোভা হয়ে রোমানিয়া পৌঁছান।

এছাড়া ইউক্রেনে রাখা জাহাজটি থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসের মরদেহ দেশেফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিপিং করপোরেশন বলছে, বাংলাদেশ চেষ্টা করছে যতোদ্রুত সম্ভব হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে ফিনিয়ে আনার।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) মালিকানাধীন বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটিডেনিশ কোম্পানি ডেল্টা করপোরেশনের অধীনে ভাড়ায় চলছিল।

ভারতের মুম্বাই থেকে তুরস্ক হয়ে জাহাজটি ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়াবন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে সিমেন্ট ক্লে নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশেরওনা হওয়ার কথা ছিল জাহাজটির।

গত দুই মার্চ রাতে জাহাজটি রকেট হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজের থার্ডইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হন। পরে জাহাজের আটকাপড়া ২৮ জন নাবিককে উদ্ধার করেনিরাপদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর হাদিসের লাশ ও বেঁচে যাওয়া ২৮ নাবিককে একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবীসংস্থার সহযোগিতায় উদ্ধার করে মলদোভাতে নেয়া হয়। সেখান থেকে ৬ মার্চ তারা রোমানিয়াপৌঁছান। 




একাত্তর/ এনএ