সাবেক রাষ্ট্রপতি ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে বিনম্র শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানালেন তার সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
রোববার (২০ মার্চ) সকালে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্টের পাশে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে শাহাবুদ্দিন আহমেদের জানাজা হয়। সুপ্রিমে কোর্টের বিচারক, আইনজীবী আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তার সাবেক সহকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন।
নব্বইয়ের দশকে সামরিক শাসন থেকে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে ফেরার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সমঝোতায় অন্তর্বতীকালীন সরকারের গুরুদায়িত্ব নিয়েছিলেন যে মানুষটি, তাকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন নব্বইয়ের ছাত্রনেতারাও।
নব্বইযের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের পক্ষে আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, আসাদুর রহমান খান প্রমুখ পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।
সকাল ১০টার আগেই শাহাবুদ্দিন আহমেদের জাতীয় পতাকা মোড়া কফিন জাতীয় ঈদগাহে করা প্যান্ডেলের নিচে মঞ্চে এনে রাখা হয়।
জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজু আহমেদ সাবেক এই রাষ্ট্রপতির কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর সাবেক এই প্রধান বিচারপতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান বর্তমান প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।
পরে কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে তার এই প্রয়াণে শোক প্রকাশ করা হয়।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও শাহাবুদ্দিন আহমেদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
শনিবার (১৯ মার্চ) সকালে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহাবুদ্দিন আহমেদ।
শনিবারই বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার কেন্দুয়ার পাইকুরা ইউনিয়নের পেমই গ্রামে। সেখানে বাড়ির প্রাঙ্গণে তার জানাজা শেষে আবার ঢাকায় নিয়ে আসা হয় কফিন। রাতে সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয় তার মরদেহ।
জাতীয় ঈদগাহে জানাজা ও শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতির কফিন নিয়ে যাওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। সেখানে তাকে সমাহিত করা হয়।
একাত্তর/জো