রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। ২০০৯ সালে দেশে মাত্র ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পেত। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ কোটি। এ সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে চার গুণের বেশি।
বুধবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে কিশোরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার বিগত এক যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশের চার স্তম্ভ-কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন, ই-গর্ভমেন্ট এবং আইসিটি ইন্ডাষ্ট্রি প্রোমোশনকে ঘিরে নেয়া অধিকাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। ফলে দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইস কমে আসছে। ইন্টারনেট ব্যন্ডউইথের দাম কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল যন্ত্রকে হতের নাগালে আনার পাশাপাশি মানুষের হাতের মুঠোয় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। জনগণ এখন ঘরে বসেই দুই শতাধিক নাগরিক সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণ বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার প্রমাণ আমরা পাই করোনা মহামারির দুঃসময়ে। করোনা মহামারি মোকাবেলায় সবচেয়ে নির্ভরশীল মাধ্যম হয়ে ওঠে তথ্য প্রযুক্তি। দেশের শিক্ষা কার্যক্রম, বিচারিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং সেবা ইত্যাদি হয়ে পড়ে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর। কোভিড-১৯ মহামারিকালে তথ্য প্রযুক্তির স্থানীয় বাজার অকল্পনীয় প্রসার লাভ করেছে। এই মহামারিকালে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করেই দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। আইসিটি বিভাগ কোনো রখম অর্থ ব্যয় ছাড়াই ‘সুরক্ষা’ প্লাটফর্ম তৈরি করে কারনোর টিকা কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করেছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে দেশে গড়ে উঠেছে ডিজিটাল অর্থনীতি, উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৮০ টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়ার ও আইটি সেবা সরবরাহ করা হচ্ছে। আইটি খাতে রপ্তানী ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এ আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে আমাদের সামনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ জন্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অগ্রগামী প্রযুক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে হবে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নীচে। দেশের বিশাল এই যুব সম্প্রদায়কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে তারা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা, পেশাজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন: মারিউপোলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার
রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনাকালে ই-কমার্স বিশেষ করে অনলাইনে বেচাকেনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই লোভনীয় অফার দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারনা করছে। তাই তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার অব্যাহত রাখতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা স্থানীয় টেকসহ প্রযুক্তির উদ্ভাবন, প্রসার এবং ব্যবহারের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে একটি উন্নয়নশীল দেশের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ট সন্তান রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর প্রমুখ।
এর আগে বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মহিনন্দে ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন।
প্রায় ৫ একর ভূমিতে ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ তলা ভবন বিশিষ্ট শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারটি নির্মিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে এ নিমার্ণ কাজ শেষ হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, কিশোরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রতি বছর অন্তত দুই হাজার যুবক যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
একাত্তর/আরবিএস