ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করায় আট-ময়দার বাজারে অস্থিরতা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল গমের বিশ্ববাজার। এবার ভারতও গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় আটা-ময়দার দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগে ভারত থেকে গম আনার তাগিদ দিচ্ছেন ময়দার মিল মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা।

গম উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। তবে, বিশ্বে শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারকের তালিকায় নেই দেশটি। যদিও সম্প্রতি বাংলাদেশে গম আমদানি বড় উৎস হয়ে উঠেছিলো ভারত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমায় গমের দাম বাড়ছিলো ধাই ধাই করে। দাম বাড়ছিলো ভারতেও।

তাই নিজ দেশের চাহিদা মেটানোর অজুহাতে শুক্রবার থেকে গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত। এই ঘোষণায় বিপদ দেখতে পাচ্ছে বাংলাদেশও।

ভারতীয় গম রপ্তানি বন্ধের খবরেই বাংলাদেশ ৭৪ কেজির ময়দার বস্তার দাম ৫০০ টাকারও বেশি বেড়ে গেছে।

 যদিও ময়দা মিল মালিকরাই বলছেন, এখনো দেশে গমের যতো মজুদ আছে তাতে সরবরাহে ঘাটতি হবার কথা নয়। তাদের পরামর্শ আমদানি বাড়াতে হবে ও বাজার তদারকি করতে হবে।

এদিকে, অনুরোধ করলে প্রতিবেশী ও খাদ্যঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো গম রপ্তানি হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগ।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই বলছে, দেশের গমে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত সরকারের দেয়া এই সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে চালের পরই গম জরুরি। পাউরুট ও বিস্কুটসহ অনেক খাদ্যের প্রধান উপকরণও গম।

তাই দেশে খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ভারত ও বিকল্প দেশ থেকে গম আমদানি করতেই হবে আর প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে তা বাজারজাত করতে হবে।

গেলো অর্থবছরের দেশে গম আমদানি হয় ৬৬ লাখ টন। আর স্থানীয় উৎপাদন মাত্র ১০ লাখ টনের মতো। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১ লাখ ৮ হাজার টন এনে বাংলাদেশের গম কেনার চতুর্থ উৎস ছিলো ভারত। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের কারণে ভারতই এখন বড় গন্তব্য। চলতি অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৩১ লাখ টন।