একুশের গান গেয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সেই গানেররচয়িতা, সাংবাদিক, কলাম লেখক ও গ্রন্থকার আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা জানালোসবস্তরের মানুষ।
এই কলম সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে তারা বলেছেন,আজীবন মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের পক্ষে এবং সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কলমধরেছেন তিনি।
তার বলিষ্ঠ লেখনি দেশ ও জাতির সংকটকালে বারবার আলোর দিশাদেখিয়েছে। যা আগামীপ্রজন্মকেও সমানভাবে দেশাত্ববোধে উদ্বুদ্ধ।
শনিবার দুপুর সোয়া একটার পর রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষহলে জাতীয় পতাকা মোড়ানো গাফফার চৌধুরীর কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশারমানুষ।
লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে শ্রদ্ধা জানান জাতির এই শ্রেষ্ঠসন্তানকে। তারাবললেন,গাফফার চৌধুরী সব সময় অন্তরে ধারণ করতেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ সময় আরো বলেন, বায়ান্নতেতিনি যেমন ভাষা সংগ্রামে যোগ দেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের প্রতিটি বাঁক বদলেরসাক্ষীও ছিলেন তিনি।
রাজনীতিবিদরা বলেন, যুক্তরাজ্যেবসবাস করলেও তিনি ছিলেন দেশের প্রতি দায়বদ্ধ। ছিলেন গণতন্ত্রের পক্ষে। এজন্য অনেকের বিরাগভাজন হলেও তিনি তার লেখনি ছাড়েননি।
লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, বারবার গাফফারচৌধুরী জাতিকে আলোর দিশা দেখিয়েছেন। কলমধরেছেন সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা শেষে তাকে সেখান থেকে বিদায় দেওয়াহয় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারির গানে গানে।
এর আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় শনিবার সকাল ১১টায়বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে গাফফার চৌধুরীর মরদেহ ঢাকারশাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে সরকারের পক্ষে গাফফার চৌধুরীর মরদেহগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। একই ফ্লাইটে আসেন আবদুলগাফফার চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনশেষে বিকাল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজাঅনুষ্ঠিত হয়।
এরপর মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে।সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিকাল সাড়ে চারটায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানেরউদ্দেশে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর বিকাল সাড়ে পাঁচটা দিকে অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ীস্ত্রীর কবরের পাশেই শেষশয্যায় শায়িত হন একুশের গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
গত ১৯ মে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় লন্ডনেরএকটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বরেণ্য এই সাংবাদিক। মৃত্যুকালে তার বয়সহয়েছিল ৮৮ বছর।