বনভূমিতে বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার বাতিলের দাবি

কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনের ২০ একর জমি ফুটবল ফেডারেশনকে বরাদ্দ দিয়ে সরকার নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

তাদের দাবি, সেখানে বাফুফের ভবন হলে নষ্ট হবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। আর বন ধ্বংস করে কোন টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। 

কক্সবাজারে খুনিয়াপালংয়ের সংরক্ষিত বনটি বন্য হাতির চলাচলের একমাত্র পথ। এছাড়া এই বনে আছে বানর, শুকর, সাপ, পাখিসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর বিচরণ। 

অথচ এই বনেই বাংলাদেশে ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ২০ একর জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এতে কাটা পড়তে পারে প্রায় ৩০ হাজার গাছ। 

গেলো সোমবার টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য কক্সবাজারের খুনিয়াপালংয়ে ২০ একর জমি বরাদ্দ পায় দেশের ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি।


বন সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে দেয়া এই বরাদ্দ বাতিলের দাবিতে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলন করেছে কয়েকটি পরিবেশবাদি সংগঠন। 

পবিবেশ বিষয়ক ১১টি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেছেন, সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বন উজারের তৎপরতা চলছে। 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান বলেন, কক্সবাজারের বনটা হল একটা প্রাকৃতিক বন। 

তিনি আরও বলেন, আপনি সেটি ধ্বংস করলে আর তৈরি করতে পারবেন না। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আপনি কি রেখে যাচ্ছেন? 

ইতোমধ্যেই দেখা গেছে, অন্যান্য জেলার তুলনায় ঢাকার তাপমাত্রা আশেপাশের জেলাগুলোর তুলনায় দুই ডিগ্রী বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র সবুজ না থাকার কারণে। আমরা এমনিতেও ২৫ শতাংশ বনভূমির যে মৌলিক শর্ত তার ধারে কাছেও নেই বলেও জানান তিনি। 

লিখিত নিবন্ধে গ্রীন কক্সবাজার সংগঠনের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের বনভূমি রক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি। 

রয়েছে আইন, নীতি, আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন জেলায় বন্দোবস্তযোগ্য পতিত জমি ও অকৃষি খাস জমি থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বনভূমিকে উন্নয়নের নামে ব্যবহারের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।

নাগরিক আন্দোলন নেতা ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, বনকে টিকিয়ে রাখাই বড় উন্নয়ন। পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো রাজধানী নেই যেখানে ৫টি নদী আছে। কিন্তু ঢাকায় আছে।

এই ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি থাকেন। তবুও এ নদীগুলোকে আমরা পরিশোধন করতে পারছি না। আমরা দুর্ভাগা যে আমরা বনভূমি তথা এ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে পারিনি। কক্সবাজারের বায়ুদূষণ অন্যান্য সব জায়গার চেয়ে বর্তমানে বেশি।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন ও পরিবেশ রক্ষা সরকারের একটি পবিত্র দায়িত্ব। যেন-তেনভাবে যখন বন বরাদ্দ করা হয়, সেটি তো সংবিধানেরও লংঘন৷ এমন তো না যে, কক্সবাজার ছাড়া আর কোনো জায়গায় সরকারি জমি নেই।

তিনি আরও বলেন, ফুটবলের যে মৌলিক নীতি, ‘ফেয়ার প্লে’ সেটিও তো বাফুফে লংঘন করছে। বাফুফে ফিফার দোহাই দিচ্ছেন। ফিফা তো পরিবেশ ধ্বংস করে সেন্টার নির্মাণের নির্দেশ দেয়নি। 

বলতে চাই, বাফুফের সেন্টার নির্মাণের অনুমোদনের পর ফিফা'র অর্থায়ন বন্ধের মত বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা তারা মাথায় রাখবে। আমরা সেটি মনে রাখার কথা বলব।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকর্মী খুশী কবির বলেন, কক্সবাজারের বনভূমির সঙ্গে শুধু গাছপালা না, অন্যান্য বন্যপ্রাণী, বায়ুদূষণ, পরিবেশ দূষণের মত বিষয়গুলো জড়িত। আমরাও ফুটবলের উন্নয়ন চাই। তবে, সেটা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করে নয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও কক্সবাজারের ৭০০ একর বনভূমি বঙ্গবন্ধু একাডেমিক অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। পরে আদালতের নির্দেশে সেটি স্থিগত করা হয়। 


একাত্তর/এআর