৫২ টাকার নিচে চাল নেই, দাম বাড়লো ‘সবকিছুর’

রাজধানীর বাজারে ৫২ টাকার নিচে কোনো চাল মিলছে না। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় যে চাল, সেই ব্রি ধান-২৮ -এর চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আর চিকন চালের মধ্যে নাজিরশাইল বর্তমানে ৮৫ টাকা কেজি।

রাজধানীর একাধিক বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে চালের দাম। তাছাড়া বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম কেজিতে ২ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গত দুই দিনে সব মালের দামই কমবেশি বেড়েছে। এখন মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কচুমুখী ৫০ টাকা, মরিচের কেজি ২৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত চার দিনে পটলের কেজি ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হয়ে গেছে। ঢেঁড়শও কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে, ধুন্দল ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে।

টমেটো প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, করলা ৮০, কাকরোল ৬০ টাকা, শসা ৬৯ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে কেবল পেঁপে এখনও সুলভ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। প্রতিকেজি ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে।

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পর ভোগ্যপণ্যের বাজারে দৈনন্দিন কেনাকাটার তালিকায় থাকা প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম কেজিতে ২ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

এছাড়া বাজারে এখন এক ডজন মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায় যা এক সপ্তাহ আগেও ১২০ টাকার মধ্যে ছিল।

অনেক মাংসের দোকানেই লেয়ার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতিকেজি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। তাছাড়া সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকায়।

চালের দাম বাজারভেদে খুচরায় কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। ফলে খুচরা বাজারে চাল এখন ৫৫ টাকার নিচে মিলছে না।

পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, মঙ্গলবার রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। গত ৪ আগস্ট ছিল ৬৫ টাকা।

৪ আগস্ট বিক্রি হওয়া ৪৭ টাকার মোটা চাল গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪৯ টাকায়। ৬৬ টাকার নাজিরশাইল ৬৭ টাকা, ৭১ টাকার কাটারিভোগ ৭৩ টাকা, ৭৮ টাকার বাসমতী ৮২ টাকা এবং ১০৮ টাকার চিনিগুঁড়া বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়।

বাজারে আটা, ময়দা, চিনি, লবণের দামও বেড়েছে। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আটায় বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ময়দায় বেড়েছে ৭০ টাকা, চিনিতে বেড়েছে ১৫০ টাকা।

তিন দিন আগেও লবণ ৩৫, খোলা চিনি ৮০, প্যাকেট চিনি ৮৫ ও খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কেজিপ্রতি দাম বেড়ে লবণ ৩৮, খোলা চিনি ৮৫, প্যাকেট চিনি ৯০ ও আটা ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে ফলের বাজারেও। গত তিনদিনে বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। আপেল ও কমলার কেজি ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। আড়াইশো টাকা ছুঁয়েছে আমের কেজি। আর আঙুরের দাম কেজিতে ৮০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকা দরে।

দাম বেড়েছে কমলা, মাল্টা, নাটফল, আনার ও আনারসেরও। জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর কয়েকদিন খুচরাপর্যায়ে এসব ফলের দাম ৩০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,  খুচরা ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ আফ্রিকার আপেলের (গ্রিন আপেল) কেজি বিক্রি করছেন ৩০০-৩২০ টাকা, যা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে ছিল ২৪০-২৮০ টাকা।

গালা আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৯০ টাকা, যা আগে ছিল ২২০-২৪০ টাকা। ফুজি আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে।

আরও পড়ুন: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি অভিযান, গ্রেপ্তার ৫৫

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাল্টার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২১০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৬০-১৮০ টাকা। নাটফলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৬০ টাকা, যা আগে ছিল ২০০-২৪০ টাকার মধ্যে। কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৬০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ২৫০-৩০০ টাকার মধ্যে।

আঙুরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৬০ টাকা কেজি, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৩২০-৩৮০ টাকা। আনারের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা, যা আগে ছিল ২২০-২৫০ টাকা। কয়েকদিন আগে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া আনারস এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।


একাত্তর/আরএ