তেলের মজুত ও অর্থের হিসাব দিলো বিপিসি

দেশে বর্তমানে ৩০ দিনের ডিজেল ও ১৮ দিনের অকটেন-পেট্রোল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ।

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা টাকা সরাতে সরাতে ৩৪ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে, এখন ১৯ হাজার কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। 

এ বি এম আজাদ বলেন, ১১টি উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। মুনাফার একটি অংশ বিপিসি প্রকল্পের নামে জমা রেখেছে। 

বিপিসির পেমেন্টগুলো নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি পর্যবেক্ষণ করছিল বিপিসি। 

এফডিআর ভেঙে ভেঙে তেল কিনেছে সরকার। তেল সরবরাহে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্যই এসব ব্যবস্থা। প্রকল্পের টাকা এনে তেল কেনার কারেন্ট অ্যাকাউন্টে নগদায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রতি লিটার ডিজেলে ১২০ টাকা খরচ হচ্ছে বিপিসির, এ ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি ৬ টাকার মতো লোকসান দিতে হচ্ছে।

অকটেনে ২৫ টাকার মতো বিপিসির লাভ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন, বিপিসির টাকা দিয়ে কয়েক মাস চললে তেলের দাম বাড়াতে হতো না। 

বিপিসি চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, এটা ঠিক নয়। আমরা এফডিআরের টাকা দিয়েই তেল আমদানি করেছি। বিপিসির এক্সটার্নাল অডিট দুটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে করিয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ক্রুডের কারণে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ে। পেট্রোল-অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।

সরকারের কাছ থেকে কোনো ভর্তুকি না নিয়ে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা টাকা থেকে গত ৬ মাসের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

এ সময় তেলের মজুত সম্পর্কে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৩০ দিনের ডিজেল, ১৮ থেকে ১৯ দিনের অকটেন, ১৮ দিনের পেট্রোল এবং ৩২ দিনের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে বিপিসির লোকসান হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। 

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত আট হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান। 


একাত্তর/এআর