শিশুদের টিকা কার্যক্রম প্রথম দফায় ১২টি সিটিতে

২৫ আগস্ট শুরু হচ্ছে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের করোনা টিকা দেয়ার বিশেষ কর্মসূচি। প্রাথমিক পর্যায়ে ২ কোটি ২২ লাখ শিক্ষার্থী থাকলেও আপাতত টিকার আওতায় আনা হবে ১ কোটি শিশুকে। ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে এই টিকা।

তবে এর আগে বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হবে। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবার পাঁচ বছরের উদ্ধের শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনতে চায় সরকার।

চলতি মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হবে এই কর্মযজ্ঞ। প্রাথমিকের উপবৃত্তির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা টিকার কাজে আসবে। 

সে অনুযায়ী প্রথম ধাপে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী টিকা পাবে। যদিও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের হিসেবে প্রাথমিকে বই দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে।

সচিব জানান, টিকার এই হিসেবটা মূলত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। পর্যাক্রমে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের এই বয়সী শিক্ষার্থী যারা বই পেয়েছে তারাও টিকার আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা আর বিদ্যালয়ের আকারের উপর নির্ভর করবে কেন্দ্র কোথায় হবে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশি হলে সেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্যই সেখানেই কেন্দ্র হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের টিকা কার্যক্রম সারাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। 

টিকার প্রথম রাউন্ড চলবে ২৫ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ দিন। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ড (দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম) হবে প্রথম রাউন্ডের দুই মাস পর।

তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকার কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়েও শুরু হবে। 

শিশুদের জন্য ফাইজারের বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি করা টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাদের হাতে আছে। আমাদের টিকা কর্মীরাও সারাদেশে প্রস্তুত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ টিকা আছে। ২৫ আগষ্টের পর ১২ কর্মদিবসের মধ্যে প্রথম দফার কার্যক্রম শেষ করা হবে। 

টিকা নিতে শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করা লাগবে। যাদের জন্ম নিবন্ধন নেই, তাদের দ্রুত নিবন্ধন করে নিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।


একাত্তর/এআর