সনাতন ধর্মের অন্যতম দেবতা বিষ্ণুর অবতার শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে আনন্দ উৎসবে উদযাপিত হয়েছে জন্মাষ্টমী। শোভাযাত্রায় ব্যানার-ফেস্টুন আর বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন পালন করেছেন দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
হিন্দু পঞ্জিকা মতে, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়।
রাজধানীতে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিকেল সাড়ে চারটার পর ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া ওই শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করে। এরপর পলাশী রোড ও আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে আবারও সকল শোভাযাত্রা একসঙ্গে ঢাকেশ্বরীর দিকে যায় এবং সেখানে গিয়ে এটি শেষ হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শোভাযাত্রায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের বেশ আগে থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঢাকেশ্বরী এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। কেউ ট্রাকে করে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
কুমিল্লায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর পূর্জা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন পালিত হয়েছে।
সকালে নগরের রানীর বাজার শ্রী শ্রী রাসস্থলী মন্দিরের সামনে বেলুন উড়িয়ে শ্রী কৃষ্ণের ৫ হাজার ২৪৯ তিথির শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্ধোধন করেন প্যনেল মেয়র মঞ্জুর কাদের মনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জেলার সভাপতি শিব প্রসাদ রায়,সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাস টিটুসহ নেতৃবৃন্দরা।
উদ্বোধনের পর হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক ও প্রাণপুরুষ মহাবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রাটি নগরেররানীর বাজার শ্রী শ্রী রাসস্থলী মন্দিরের সামনে থেকে শুরু হয়ে নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জগন্নাথ দেবের মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নগরের বিভিন্ন মন্দির থেকে বর্নিল সাজে সজ্জিত হয়ে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বিরা শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন করেছে।
ভৈরবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর পূর্জা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মদিন পালিত হয়েছে।
সকালে ভৈরব টিন বাজারে শ্রী শ্রী গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে শ্রী কৃষ্ণের ৫হাজার ২৪৯ তিথির শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে ভৈরব শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় গোপাল জিউর মন্দির এর সামনে গিয়ে শেষ করে।
এতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়স-শ্রেণি-পেশার নারী, পুরুষ, শিশুরা অংশগ্রহণ করে।
এছাড়াও জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গোপাল জিউর মন্দির এর দিনব্যাপী আলোচনা সভা ভোজন বিলাস এর আয়োজন করা হয়।
বগুড়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর পূর্জা আর্চনার মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন পালন করা হয়। সকালে বগুড়া জিলাস্কুল থেকে শ্রী কৃষ্ণের ৫হাজার ২৪৯ তিথির শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উজ্জল কুমার, । এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, পূজা উদযাপন পরিষদের জেলার সভাপতি সাগর কুমার রায়সহ অন্যরা।
শোভাযাত্রাটি শহরের জিলাস্কুল থেকে বের হয়ে সাতমাথা, থানা রোড, নবাব বাড়ী রোড হয়ে আবার জিলাস্কুলে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় শহরের বিভিন্ন মন্দির থেকে বর্নিল সাজে সজ্জিত হয়ে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
নওগাঁয় মহাবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ আর্বিভাব পুণ্যতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে শহরের কালীতলা শ্রী শ্রী বুড়া কালীমাতা মন্দির থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়।
ঝালকাঠিতে পূজা অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ধর্মীয় আলোচনাসহ নানা আচার অনুষ্ঠান এবং বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মানব অবতার রূপে জন্মতিথিকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি বাড়িতে ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে শুক্রবার দুপুর ১২ টায় শহরের মদন মোহন আখড়াবাড়ি মন্দির প্রঙ্গন থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনাসভা। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি এ্যাড. তপন কুমার রায় চৌধুরী। এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি ছিলেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি। অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আধ্যাপক ডা. অসীম কুমার সাহা, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জয়পুরহাটে নানা আয়োজনে এবং বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন মন্দির বাড়িতে ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে শুক্রবার দুপুর ১২ টায় শহরের শিব মন্দির প্রঙ্গন থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এ্যাড হিসিকেশ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি।
টাঙ্গাইলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুজাচ্চর্নাসহ নানা কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়। সকালে টাঙ্গাইল বড় কালীবাড়ী প্রাঙ্গন হতে বর্ন্যাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির। এসময় হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ শোভাযাত্রায় হিন্দুধর্মাবল্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন।
রাঙ্গামাটিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে সনাতনী সমাজের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা ও বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙ্গামাটি শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে জন্মাষ্টমীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এসএম ফেরদৌস ইসলাম , রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের সহকারী ম্যাজিষ্টেট বিজন কুমার জোয়ার্দার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গামাটির সভাপতি অমর কুমার দে, জম্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি মহাজন, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী বাবলা মিত্র সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
পরে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা রাঙ্গামাটি শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকার সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরুসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
রাজবাড়ীতে নানা কর্মসুচীর মধ্য দিয়ে মহাবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃঞ্চের জন্মাষ্টমী পালন করা হয়েছে।
ভগবান শ্রী কৃঞ্চের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেল চারটায় জেলা শহরের বিনোদপুর রাধা গোবিন্দ জিওর মন্দির প্রাঙ্গনে আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্ট।
এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্তর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুর্বনা রানী সাহা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক তোফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক স্বপন কুমার দাস, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি অরুন কুমার সরকার প্রমুখ।
পরে বিকেল ৫ টায় বিনোদপুর রাধা গোবিন্দ জিওর মন্দির প্রাঙ্গন থেকে বের করা হয় একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে রেলগেট শহীদ স্মৃতি চত্ত¡রে এসে শেষ হয়।
একাত্তর/এসএ