রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি সরানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাথে শাহবাগ থানায় সাক্ষাতের পর তার ভাই সেলিম বলেন, আমার বোনকে এক বোতল পানি দিতে চেয়েছিলাম। আমাকে দেখা করতে দেওয়া হয় নাই। আশ্বাস দিলেও, দেখা করতে দেয়া হয়নি আর!
সেলিম আরও জানান, দেখা করতে না দেয়ায় বোনের স্বাস্থ্য নিয়ে তার শঙ্কা বাড়ছে। হয়তো সচিবালয়ে তাকে নির্যাতনের ফলে তার কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
রোজিনাকে হাসপাতালে নেবার অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে সেলিম বলেন, আজ প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন রোজিনা। দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরষ্কার তিনি পেয়েছেন সাহসী সাংবাদিকতার জন্য। অথচ আজ তাকে জঙ্গিদের মতো হাসপাতালে নেয়ার জন্য প্রিজন ভ্যান আনা হয়েছে!
পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতায় রোজিনার সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, সচিবালয়ে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে রোজিনাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের আওতায় এ থানায়ই রোজিনার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এই দুঃসময়ে সহকর্মীদের পাশে থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন রোজিনা বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও বোনের হাতে ও গলায় নখের আঁচড় দেখেছেন উল্লেখ করে সেলিম জানান, অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম চেয়ারে বসা তার বোনের বুকে ও গলায় হাত ও হাঁটু দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে। এসময় সেখানে উপস্থিত কনস্টেবল মিজান তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলার হুমকি দেয় বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিটের লাগামহীন দুর্নীতি নিয়ে সিরিজ রিপোর্টের জেরে আক্রোশ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে রোজিনার ওপরে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নির্যাতন বলে সেলিম মনে করেন ।
একাত্তর/জো