মালিকদেরই দেয়া হলো বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব। দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মান যাচাইয়ের করবে মালিকদের সংগঠন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির জানান, শুধু নিবন্ধন থাকলেই হবে না। সেবার মান যাচাইয়ের দায়িত্বও তাদেরকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে, সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান সব শর্ত পূরণ করেই তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন। এতে করে রোগীদের সেবা দেয়া আরও সহজ হবে তাদের ধারণা।
দেশে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে চলতি বছরের মে মাসে প্রথম দফায় অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এসব অভিযানে ছোট বড় সব ধরনের হাসপাতালেই নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে দেড় হাজারের বেশি অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়।
দ্বিতীয় ধাপে ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অভিযানে ঢাকাসহ সারাদেশের ৮৫০টি নিবন্ধনহীন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তবে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান যাচাইয়ের দায়িত্ব এবার বেসরকারি হাসপাতাল আর ক্লিনিক মালিকদের সংগঠনকেই দিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ সাধারণ সভায় একথা জানান, অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর।
তিনি বলেন, অনিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধে দেশে চলমান অভিযানে কোনো ছাড় নয়। হাসপাতালের অনুমোদন নিশ্চিতে সাইনবোর্ডে নিবন্ধন নম্বর ও মেয়াদ উল্লেখ করতে হবে।
এতে অনিবন্ধিত হাসপাতাল শনাক্ত করা সহজ হবে। অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলতে হবে- যোগ করেন তিনি।
অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির কোনো আপত্তি নেই বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
বলেন, বেসরকারি অনেক হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে যে নেতিবাচক ধারণা আছে তা দূর করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানেই আমার-আপনার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানরা চিকিৎসা নেবে।
সভায় বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আমরা নিবন্ধনের বিষয়ে আপোষহীন।
আরও পড়ুন: মেট্রোরেলের ভাড়া নিয়ে নগরবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া
যারা নিবন্ধিত তারাই আমাদের সদস্য হতে পারবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর মানের দিকেও নজর দেব। সেবার মানের উপর ভিত্তি করে হাসপাতালগুলোর ক্যাটাগরি করার চেষ্টা করছি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মো. আমিন হেলালি, ডা. এ বি এম হারুন, জেনারেল সেক্রেটারি ডা. মাইনুল আহসান প্রমুখ।
একাত্তর/এসজে