সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় সাজেদা চৌধুরী

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংসদের উপনেতা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হলে নেতাকর্মীদের ঢল নামে।

সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দার এমএন একাডেমী স্কুল প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠকের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর পর প্রথম জানাজা হয়।

দুপুর পৌনে ৩টায় জাতীয় পতাকা মোড়ানো সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ আনা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে প্রথমেই তার দীর্ঘ সংগ্রামের সাথী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাউদ্দীন ইসলাম।

নিজের অবর্তমানে যার ওপর দলের দায়িত্ব দিয়ে নির্ভার থাকতেন সেই নেত্রীর মৃত্যু সবচেয়ে নাড়া দিয়েছে শেখ হাসিনাকে। শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেও। 

পরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। এর আগে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী।

এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবমহিলা লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

এরপর শ্রদ্ধা জানান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সংকটময় মূহূর্তে সাজেদা চৌধুরী একদিকে যেমন দলের হাল ধরেছিলেন তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যার পাশে ছায়া মতো ছিলেন।

এসব কথা স্মরণ করেন ওবায়দুল কাদের বলেন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর শূন্যতা পূরণ হবার নয়। শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহকর্মী ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তিনি দেশের রাজনীতির একটা বড় অধ্যায়জুড়ে রয়েছেন। তার শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

জাতীয় পার্টি জেপি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্বিবদ্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামজিক সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা শেষে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে কিছু সময় রেখে বাদ আসর বায়তুল মোকাররমে জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে সন্ধ্যায় ৬টা ২০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


একাত্তর/আরএ