যাচাই-বাছাই ছাড়া বিদেশি ঋণের প্রকল্প পাশ হয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘুষ নিলে হারাম খেলে উন্নয়ন হবে না।
তিনি বলেন, ঋণ চুক্তির অনিয়মের শুরু ইআরডি থেকে। অর্থনৈতিক বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এমন হয়। ভূমিকা আছে ঠিকাদারদেরও।
তবে পরিকল্পনা মন্ত্রীর দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অসন্তোষ থাকলেও তা আগের তুলনায় ভালো। আর দেশের উন্নয়নের জন্য বিদেশি ঋণের কোনো বিকল্প নেই।
বৈদেশিক ঋণের ভার বাড়ছে। দুই বছরে বিদেশী ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় দ্বিগুণ হবে। তবু আসছে বছর বৈদেশিক উৎস থেকে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতির দ্বিগুণ ঋণ নিতে চায় সরকার।
রোববার, রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে আয়োজিত ‘সুশাসন নিশ্চিত করণে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে ঘুরে ফিরে আসে বৈদেশিক ঋণের প্রসঙ্গ।
সেমিনারে বলা হয়, গেলো ৫০ বছরে নেয়া বিদেশি ঋণের মধ্যে ৫ হাজার ৬৬২ কোটি ডলার এখনো বকেয়া। সুদসহ ২৭৭ কোটি ডলার শোধ করতে হবে এ বছরই।
সেমিনারে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বব্যাংক) আবদুল বাকি বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে উপস্থাপন করছিলেন।
এক পর্যায়ে আবদুল বাকির কথায় দ্বিমত পোষণ করে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তোমরা কীভাবে বৈদেশিক ঋণচুক্তি করো সেই প্রক্রিয়ার বিষয় জানতে চাই।
এ সময় উপযুক্ত জবাব না দেয়াতে ক্ষোভ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রকল্পগুলোর অনিয়ম এখান থেকেই শুরু হয়। ফলে ঋণদাতারা নিজের মতো করে কাজ করে। প্রকল্প ব্যয় বাড়ে।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হারাম খেলে, ঘুষ নিলে দেশের উন্নয়ন হবে না। কিছু কিছু প্রকল্প সমীক্ষা ছাড়াই একনেকে তোলা হয়। আপনারা এটা কীভাবে করেন। এটা করতে পারেন না।
সেমিনারে বলা হয় প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরিতে ধীর গতি, পরিকল্পনা কমিশন আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার, দাতাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে অদক্ষতাও বিদেশী ঋণ নির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে দিচ্ছে। এটি মানছেন পরিকল্পনামন্ত্রীও।
পরে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য বিদেশি ঋণের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের অবশ্যই ঋণ নিতে হবে। তবে ঋণ নিতে হবে বুঝেশুনে এবং ঋণের অর্থকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সবারই ঋণের দরকার হয়। বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলোও ঋণ গ্রহণ করে। আমাদেরকেও তাই করতে হবে। পূর্বের তুলনায় আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। আমরা আগের তুলনায় বেশি ঋণ পাচ্ছি এবং ঋণ পরিশোধও আগের তুলনায় বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব শরিফ খান।
একাত্তর/এসি