স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস-ট্রেন-লঞ্চ চলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। নতুন করে বিধি-নিষেধের মেয়াদ বাড়লেও প্রজ্ঞাপনে সোমবার (২৪ মে) থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ মে) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন উপ-সচিব রেজাউল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৩ মে থেকে ৩০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত চলমান ‘লকডাউন’ বহাল থাকবে। এসময় হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে উভয় ক্ষেত্রে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক আসন শূণ্য রেখে সেবা দিতে হবে বিক্রেতাদের।
এতে আরও বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধি-নিষেধ বহাল থাকবে।
এদিকে শনিবার (২২ মে) রাজধানীর সদরঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা ২৪ মে (সোমবার) থেকে লঞ্চ চলাচল শুরুসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নৌ-যান বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। অথচ পোশাক কারখানাসহ দোকান-পাট খুলে দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, লঞ্চ বন্ধ থাকায় পন্টুনে মরিচা ধরেছে। একই অবস্থা শ্রমিকের জীবনেও। আয় রোজগার বন্ধ। পরিবারের খরচ চালাতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে গতকাল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনার সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঈদের ছুটির পর করোনার গতি প্রকৃতি বুঝতে এই সপ্তাহটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি শঙ্কা জনক না হলে নিশ্চয়ই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে সরকার”।
আরও পড়ুন: ৩০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হলো ‘লকডাউন’
প্রসঙ্গত, চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার। পরে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ঈদেও লঞ্চ-ট্রেন এবং দূর পাল্লার বাস বন্ধ ছিলো।
একাত্তর/আরএ