বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের প্রতি আহবান

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে দুই দেশের গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। দুই দেশের সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সুসংহত করতে দুই দেশের গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত 'রোল অফ মিডিয়া ইন বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া রিলেশন্সঃ চ্যালেঞ্জেস এন্ড প্রসপেক্টস' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পীকার এসব কথা বলেন।

এসময় স্পীকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন সরকার প্রধান শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও আদর্শিক নেতৃত্বই দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভীত স্থাপন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ সম্পর্ক আরও প্রতিষ্ঠিত ও সুসংহত হয়৷ 

তিনি আরও বলেন, মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি, ভারতের সাথে স্থল সীমানা চুক্তি ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বিবিআইএন, বিমসটেক ইত্যাদি বিষয়ে উভয় দেশ কিভাবে আরও উপকৃত হতে পারে সেক্ষেত্রে দুদেশের গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

স্পীকার বলেন, বৈশ্বিক সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারত শুধু ভৌগোলিক সীমান্তেই আবদ্ধ নয়, পঞ্চাশ বছর ধরে দুই দেশের শিল্প, সাহিত্য, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা লক্ষণীয়। ভারত বাংলাদেশের সবচাইতে পুরনো বন্ধু।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর পাকিস্তানের বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় ভারত। মুক্তিযুদ্ধকালীন এদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় ভারত। ভারতীয় গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ গণহত্যার খবর সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের মধ্য দিয়ে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়। 

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, স্বৈরশাসনের দুঃসহ দিনগুলোতে জাতীয় প্রেসক্লাবই হয়ে উঠেছিল আন্দোলন ও সংগ্রামের কেন্দ্রস্থল। ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী প্রেস ক্লাবে মরটার শেল নিক্ষেপ করেছিল এবং অপারেশন সার্চলাইটের সময়ে প্রেস ক্লাব ভবন বিধ্বস্ত হয়ে যায়। সকল আন্দোলন সংগ্রামে কখনো আপোষ না করে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার বাতিঘর জাতীয় প্রেসক্লাব। জাতীয় প্রেসক্লাব গণতন্ত্রের আধার, অসাম্প্রদায়িক গতিশীল চেতনার ধারক, স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্রতিষ্ঠান এখনো দেশের মানুষের ভরসার স্থল।

আরও পড়ুন: 'রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার জান্তা সরকার'

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দ্যা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ভারতীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গীতার্থ পাঠক, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


একাত্তর/এসজে