রাতেই সৃষ্টি হয়ে দ্রুত উপকূলের দিকে ছুটবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং

২৪ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর সকালের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে পারে সিত্রাং। বর্তমানে এটি গভীর নিম্নচাপ আকারে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এসব তথ্য জানিয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি আঘাত হানতে পারে ভারতের ভুবনেশ্বর ও পশ্চিমবঙ্গে। তবে দিক বদলে বাংলাদেশের উপকূলের ১৯ জেলায় আঘাত হানতে পারে।

রোববার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকেই সারাদেশে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। এই আবহাওয়া জানান দেয় সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, যা এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত। 

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় রোববার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী জানান, লঘুচাপ আকারে এটি আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, ২৫ অক্টোবর উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে কিনা সেটি ২৩ তারিখ সন্ধ্যায় বোঝা যাবে।

সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে সিত্রাং। ঝড়টির সর্বশেষ গতিপথ অব্যাহত থাকলে এটি ভারতে আঘাত হানবে। আর গতিপথ পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯ জেলায় আঘাত হানবে।


ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানান, কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ৭৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই এটি আঘাত আনতে পারে।

তবে সিত্রাং সুপার সাইক্লোনে রূপ নেবে না বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি রোববার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশে আঘাত আনতে পারে। ১৯টি জেলা ঝুঁকিতে রয়েছে। তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি আকারে বড় হলেও দুর্বল হবে।

এখন নিম্নচাপটির গতিপথ উত্তর–পশ্চিম দিকে। গতিপথে যদি পরিবর্তন ঘটে তাহলে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে তা ভারতের ওডিশা উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

এখন পর্যন্ত গতিপথ সেদিকেই। তবে গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যদি উত্তর-পূর্ব দিকে ধাবিত হয়, তবে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

গভীর নিম্নচাপটি দ্রুত এগুচ্ছে। এতে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ৭৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই এটি আঘাত আনতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।


তিনি জানান, প্রতি জেলায় শুকনা খাবার, চাল আর সহায়তার জন্য নগদ টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে বলেও জানান জানান, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর অবস্থান করা গভীর নিম্নচাপটি আরও সামান্য উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় আছে।

আরও পড়ুন: সিত্রাং আছড়ে পরতে পারে বাংলাদেশের উপকূলে!

এটি রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত ও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে প্রাথমিকভাবে দিক পরিবর্তন করে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

একাত্তর/আরএ