আগামী বছর বাংলাদেশ সফর করবেন সৌদি যুবরাজ সালমান

সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা ইউসেফ ইসা আল দুহাইলান শনিবার (১৯ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান।

বৈঠকে আমন্ত্রণ গ্রহণের একটি স্বীকৃতিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এ সফরে সম্মতি দিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৮৫ সালে সৌদি যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের ঢাকা সফরের পর এটিই হবে কোনো ক্রাউন প্রিন্সের প্রথম বাংলাদেশ সফর। এ সফর উভয় দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সফরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। সফরের সময় বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক এবং চুক্তি স্বাক্ষর হবে, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে তেল শোধনাগার স্থাপন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং হালাল খাদ্য শিল্পসহ বিভিন্নখাতে আরো সৌদি বিনিয়োগের আহবান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৌদি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ করে মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বিশেষ জমি বরাদ্দ করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশিদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব এখানে বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাবে। সৌদি বিনিয়োগ সরকারের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবে।

এসময় সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করবেন। বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে সৌদি বিনিয়োগের কিছু উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলেও তিনি বৈঠকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি ফাস্ট-ফুড সার্ভিস কোম্পানি ‘হারফি’সহ বেশ কয়েকটি সৌদি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে খুব ভালো ব্যবসা করছে।

তার দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

তিনি জানান, গত অক্টোবরে সৌদি যুবরাজ পাঁচটি দেশে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল বরাদ্দ করেছেন। বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পের জন্য এ ধরনের তহবিল পাওয়া গেলে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

জবাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের টুইটার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন মাস্ক

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম উম্মাহ তথা বাংলাদেশের জনগণের বৃহত্তর কল্যাণে সৌদি আরবসহ সব মুসলিম দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

সৌদি কূটনীতিক অনেক সীমাবদ্ধতা থাকার পরও ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদার মনোভাব।’


একাত্তর/আরএ