করেনাকালীন সময়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অব্যাহত রয়েছে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ চেষ্টা।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলাতে ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ উপজেলার বাঘাডাঙ্গা, পৈলানপুর, জলুলী, যাদবপুর, মাটিলা, কুসুমপুর, শ্রীনাথপুর, বেনীপুর ও শ্যামকুড় সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ২০ দিনে ৫০ জন অনুপ্রবেশকারীসহ গত ৫ মাসে ৯ শতাধিক ভারতীয়কে আটক করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে বিজিবি।
সীমান্তের মধ্যে বাঘাডাঙ্গা এলাকায় ১০.৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বিজিবির চোখ ফাকি দিয়ে চলছে রাতের আধারে অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে বিজিবির চোখ ফাকি দিয়ে সীমান্তের স্থানীয় দালালেরা জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে মানবপাচার, মাদকসহ নানা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত নেপা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি দালালদের আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, দালালদের বিরুদ্ধে তিনিও স্বোচ্ছার আছেন।
এদিকে প্রতিদিনই নারী-শিশু ও পুরষ আটক হওয়ার ঘটনায় সীমান্তের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভারতের করোনা ভাইরাসের আতংক। এ পর্যন্ত সীমান্তবর্তী বাউলি গ্রামে ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিজিবি সীমান্তের ১০-বিওপি রয়েছে। সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। যার কারণে ৫ মাসে ৯শতাধিক অনুপ্রবেশকারী ও ভারতে প্রবেশের চেষ্টার সময় তাদের আটক করা হয়।
বিজিবি-৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল আহসান জানান, করোনাকালীন সময়ে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসলেই সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তের ৬টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরে দ্রুত দালালদের তালিকা তৈরি করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন।
একাত্তর/এসএ