স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশের বেশকিছু এলাকায় নিপা ভাইরাস রোগী পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত আট জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ জন।
রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি জানিয়েছেন, সংক্রমিত ও মৃতদের বেশিরভাগই রাজশাহীর বিভাগের। তাদের মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আলাদা আইসিইউ ইউনিট করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণত শীতকালে বাদুরের মাধ্যমে খেঁজুরের রস থেকে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া যে ফলের কিছু অংশ পাখি খেয়ে ফেলে, সেই আধা খাওয়া ফলও খাওয়া যাবে না। তাই আমাদের সজাগ থাকতে হবে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ৭০ শতাংশ মৃত্যু হতে পারে। বাংলাদেশে এর হার ৭১ শতাংশ।
সংক্রমণ বাড়ার পেছনে মানুষের অসতর্কতাকে দায়ি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই ভাইরাস থেকে রক্ষায় মানুষকে সচেতন করতে পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা টিভিসি তৈরি করেছি।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংশোধন বিল পাশ, নাটাই সরকারের হাতে
আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা কীভাবে চলছে জানতে চাইলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, নিপা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক নেই। কোনো ভ্যাকসিন নেই, ওষুধও নেই। সিম্পটমেটিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেভাবে আমরা করোনার চিকিৎসা দিয়ে আসছিলাম।
এদিকে আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। নিপা আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হলেও পরে গুরুতর স্নায়বিক জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এই জটিলতা আরও খারাপ হয়।
অপরদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারিভাবে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে। হাসপাতালগুলোর মান অনুযায়ী ক্যাটাগরি (শ্রেণিবিন্যাস) করে ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা, যন্ত্রপাতি, অবস্থান, লোকবল, সুযোগ-সুবিধাভেদে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অ, ই, ঈ, উ শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে।
‘এ’ ক্যাটেগরির এক রকম সুবিধা, ‘বি’ ক্যাটেগরির এক রকম সুবিধা এবং ‘সি’ ক্যাটেগরি হাসপাতালগুলো মানভেদ থাকবে। চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা উল্লেখসহ সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা থাকবে। এতে মানুষ আগে থেকেই জানতে পারবে কোন হাসপাতালে গেলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে। চিকিৎসা বাবদ কত টাকা ব্যয় হবে।
একাত্তর/এসি