বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো শঙ্কার কথা জানায়নি আদানি গ্রুপ: নসরুল

ভারতের ফারাক্কায় আদানি পাওয়ারের কাজ বন্ধের দাবিসহ অন্য দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ রপ্তানি প্রকল্পের বিরোধিতা করে জনস্বার্থে এই মামলাটি করা হয়।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) কলকাতা হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি দায়ের করেন পশ্চিমবঙ্গের ৩০ জন ফল চাষী ও অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর) নামে একটি সংস্থা।

জানা যায়, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় আদানি গ্রুপের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ওপর দিয়ে খুঁটি দিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের তার (হাইটেনশন) যাচ্ছে বাংলাদেশে। কিন্তু জেলার যে অংশের ওপর দিয়ে আদানির এই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন যাচ্ছে, সেই ফারাক্কা নামক জায়গায় প্রচুর পরিমাণ আম ও লিচুর বাগান থাকায় তাতে প্রবল আপত্তি জানায় সেখানকার ফল চাষীরা। 

এদিকে আদানি গ্রুপ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ না দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হবে না। আর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো শঙ্কার কথা জানায়নি আদানি গ্রুপ।

ভারতের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপ। তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আমদানি করার বিষয়ে ২০১৫ সালে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে ২০১৬ সালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির একটি বৈঠক হয় ভারতের আহমেদাবাদে। সেই বৈঠক শেষে গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে পাশে থাকতে চায় আদানি গ্রুপ।

গৌতম আদানি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই অগ্রসর হচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে ঝাড়খাণ্ডে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবে আদানি। শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য করা হবে আলাদা গ্রিড লাইন

বিদ্যুৎ বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে তখন আশাবাদ জানিয়েছিলেন গৌতম আদানি।

জানা গেছে, আদানি গ্রুপ ভারতে কয়লা থেকে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এ ছাড়াও সৌর বিদ্যুৎ চার হাজার ৮০৩ মেগাওয়াট, বায়ু থেকে ৬৪৭ মেগাওয়াট ও ৩৯০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে আদানি। 

জানা গেছে, ভারতের ঝাড়খাণ্ডের গোড্ডা জেলায় সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এখন প্রস্তুত। দ্বিতীয় ইউনিটে কাজও প্রায় শেষ।


গত তিন জানুয়ারি সম্প্রতি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেখতে ভারত সফরে যান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ একটি প্রতিনিধি দল। ঘুরে দেখেন দুই ইউনিটের যন্ত্রপাতি, কন্ট্রোল রুমসহ সার্বিক প্রস্তুতি।

নসরুল হামিদ জানান, ঝাড়খণ্ডের এই কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের মধ্যেই এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে  বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ। জুনে পুরো কেন্দ্র থেকে মিলবে প্রায় এক হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে নিতে ১৩০ কিলোমিটার গ্রিড লাইনের কাজও শেষ  হয়েছে। গ্রিডের খরচসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে প্রায় ১৭ টাকা। তবে বিশ্ববাজারে কয়লার দাম কমে এলে বিদ্যুতের দামও কমবে। 

এই মুহূর্তে দেশের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচও ইউনিট প্রতি ১৬ টাকা। সেই সঙ্গে আছে প্ল্যান্ট তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ, কোল টার্মিনাল,পরিবহন, পরিবেশ সংক্রান্ত নানা ইস্যু। সব মিলে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রশ্ন। সব বিবেচনা করেই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি জানান, কেন্দ্রটির গ্রিড লাইন নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি কলকাতায় মামলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে এখনও কোন শঙ্কার কথা জানায়নি আদানি গ্রুপ। 

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে আদানি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত গ্রিড লাইন নির্মাণ করেছে। একই লাইনে আরও এক হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহেরও প্রস্তাব দিয়েছে আদানি পাওয়ার।

আরও পড়ুন: ২৮ জেলায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ, সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ

২০১৭ সালের পাঁচ নভেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ ও আদানি পাওয়ার লিমিটেড, ইন্ডিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আদানি পাওয়ার লিমিটেড ভারতের ঝাডখণ্ডে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। নির্মাণ করা হয়েছে ডেডিকেটেড সঞ্চালন লাইনও। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ায় দুইটি সাবস্টেশন ও অন্য সঞ্চালন কাজ পিজিসিবি নির্মাণ করেছে।

এদিকে আদানি পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল সর্দানা জানালেন, বিদ্যুৎ না দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা নেবে না আদানি। এটি ভারতের সবচেয়ে আধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র। 


একাত্তর/এসি