রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা চ্যালেঞ্জিং: সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করা চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। রোববার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর একাত্তরকে দেয়া তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। ৭৪ বছর বয়সী পাবনার সন্তান সাহাবুদ্দিনের জন্ম ১৯৪৯ সালে। পাবনা জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পরে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সরাসরি সাহচর্যও। 

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জন্ম ১৯৪৯ সালে। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধেও। ছাত্র জীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর কারাবরণ করেন সাহাবুদ্দিন।

১৯৮২ সালে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন। বিচারক হিসেবে বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২৫ বছর পর ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন: একুশে পদক পাচ্ছেন ১৯ বিশিষ্ট নাগরিকসহ দুই প্রতিষ্ঠান

২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সে সময় পদ্মাসেতু নির্মানে কথিত দূর্ণীতির অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অযাচিত চাপে পড়তে হয় কমিশনকে। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ পরিবর্তন করা হলে তিনি স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। বর্তমানে ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। 

এছাড়া দ্বায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও। রাষ্ট্রপতি মনোনীত হবার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দ্বায়িত্বটিকে চ্যালেঞ্জিং বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হবার পর সব পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে।

সবকিছু ঠিক থাকলে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন সাহাবুদ্দিন। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের উত্তরসূরি হবেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নেন আবদুল হামিদ। সেই অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হবে।


একাত্তর/আরবিএস