এখন ভোট চুরির কোন সুযোগ নেই: হাসিনা

এখন আর ভোট চুরির কোন সুযোগ নেই এমন কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। নির্বাচন কমিশনকে জনগণের ভাতের অধিকার এবং ভোটের অধিকার আমরা বাস্তবায়ন করেছি।

সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাঁর কাতার সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকার প্রধান এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ভাষণ ছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন করেছে। সেই আইনের আলোকে নির্বাচন কমিশন হয়েছে। ইসির আর্থিক স্বাতন্ত্র্য দেয়া হয়েছে। এসব কারণে এখন আর ভোট চুরির সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। আর, আওয়ামী লীগ এই লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এসব কারণে এখন আর ভোট চুরির সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগ সরকারে আসার আগে ভুয়া ভোটার তালিকা ও ভোট চুরির বিষয়টি উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এসব বন্ধের লক্ষ্যে ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হলেও অনেকের আপত্তি থাকায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। যাকে খুশি ভোট দেবে। আমরাই দেশে ভাত ও ভোটের আন্দোলন করেছি। জনগণকে দেওয়া কথা আমরা রেখেছি। করোনা মহামারি না এলে আমরা আরও এগিয়ে যেতাম। ইউক্রেন যুদ্ধ না থাকলেও আমরা আরও এগিয়ে যেতাম। তবে আমি হতাশ নই। আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলি।

জনগণ আওয়ামী লীগের মুল শক্তি উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কথা মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ এই দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে। সেজন্যই মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন: রমজানে অফিস চলবে নতুন সময়সূচিতে

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগই আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। যদিও করোনা ও যুদ্ধের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে, তা না হলে দারিদ্র্যের হার আরও দু’তিন শতাংশ কমানো সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, এক টানা ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকার পরিচালনা করেছি। এর মধ্যে দেশে স্থিতিশীলতা রাখতে পেরেছি। এর মধ্যেও কিছু আগুন সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। যেহেতু দীর্ঘ সময় ছিলাম, বাংলাদেশে ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি।

 

একাত্তর/আরবিএস