জনগণ ভোট না দিলে ক্ষমতা ছেড়ে দেবো: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। তাই জনগণ ভোট না দিলে ক্ষমতা ছেড়ে দেবে বর্তমান সরকার। আমেরিকান গণমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক রিচার্ড কোয়েস্টকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সরকার প্রধান আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়ে বাংলাদেশ সতর্ক রয়েছে। তাই জনগণকে আরো খাদ্য উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে চীনের সহায়তা নিয়ে উদ্বেগের পর, দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ছিলো রিচার্ড কোয়েস্টের। প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, অন্য যে কোন দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সজাগ এবং অর্থনৈতিকভাবে এখনো শক্তিশালী।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারির আগে আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধি আট শতাংশে নিয়ে গেছি। মহামারির পর এটি কমে গেছে। আবার সেখান থেকে প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমাদের দেশের প্রবৃদ্ধি পাঁচ থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে রয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, এজন্যই বলতে চাই, আমাদের অর্থনীতি স্থিতিশালী আছে। সব দেশেই এখন মূল্যস্ফীতি একটি সমস্যা। এ কারণে আমি দেশের জনগণকে বেশি করে খাদ্য উৎপাদন করতে নির্দেশনা দিয়েছি, কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছি। এর ফলে আমাদের আর অন্যের ওপর নির্ভর করতে হবে না। আমরা আমাদের মৌলিক চাহিদা, বিশেষ করে খাদ্য যোগান দিতে পারবো। 

আইএমএফের ঋণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিএনএনকে বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়ন কাজের জন্যই এই ঋণ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সরাসরি জনগনের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়ন কাজের জন্যই এই ঋণ নেয়া হয়েছে, কারণ আমরা দেশের উন্নয়ন চাই…। আমরা খুব দায়িত্বের সাথেই ঋণ নিয়েছি। আমি আমার দেশকে কোন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না, এ বিষয়ে সব সময় সজাগ থাকি। আমি দেশের সব প্রকল্প নিয়ে সরাসরি জনগনের সাথে কথা বলি। কী করতে পারবো আর কী পারবো না তা তুলি ধরি।

সিএনএনের ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক জনপ্রিয় ‘কোয়েস্ট মিন্স বিজনেস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক রিচার্ড কোয়েস্টের প্রশ্ন ছিলো, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয় তখন, আমি এবং আমার ছোট বোন জার্মানে ছিলাম। এ কারণে হয়তো সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম।


তিনি আরো যোগ করেন, আমার একটাই লক্ষ্য আর তা হলো, আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করা। একই সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করা। আমি আমার জনগণের জন্যই কাজ করি। জনগণ যদি আমাকে ভোট দেয় আমি এখানে থাকবো, আর যদি না দেয় আমি এটি মেনে নেবো। আমি সব সময় জনগণের মতামতকেই গুরুত্ব দেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যাদের পছন্দ না তারাই সরকারের সমালোচনা করে। কিছু মানুষ আছে, যাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভালো লাগেনা, এটাই তাদের সমস্যা। অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা তাদের জন্য ভালো। এসব মানুষরাই সব সময় সমালোচনা করে থাকে। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মানুষ পুরোপুরি স্বাধীন। আমাদের দেশে একটি টেলিভিশন ও রেডিও ছিলো। বর্তমানে আমাদের ৪৪টি টেলিভিশন, ২৭টি রেডিও। যখন সামরিক সরকার ছিলো তখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হতো। এখন এমনটি হয় না। সবাই সব কিছু লিখতে পারে, বলতে পারে, সমালোচনার সুযোগ আছে। আমি এসব সমালোচনা শুনে আমি দেখি আমার কোন ভুল আছে কিনা, সেগুলো ঠিক করে নেই।


সিএনএন’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো জানান, যারাই এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে তাদের সবার জন্যই রয়েছে আকর্ষণীয় সুযোগ। এসব সুযোগ গ্রহণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠির প্রতি আহবানও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। 


একাত্তর/এআর