সব আসনে রির্টানিং কর্মকর্তা, খবর সংগ্রহে বাধা দিলে জেল

প্রতিটি আসনে একজন করে রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে নির্বাচন পরিচালনার বিধান রেখে নির্বাচনী আইন সংশোধনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। 

এছাড়া নির্বাচনে গণমাধ্যম কর্মী ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দিলে দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে এই আইনে। 

বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বেশ কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব করেছিলো নির্বাচন কমিশন। ভোট বাতিলে ইসির ক্ষমতা ও ভোট বন্ধে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বাড়ানো। 

প্রার্থীর এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখালে বা কেন্দ্রে যেতে বাধা দিলে শাস্তির বিধান রাখা। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে শাস্তি দেয়া। 

রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেয়া। কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলাজনিত অপরাধের শাস্তি বাড়ানো। 

পাশাপাশি প্রার্থীদের আয়কর সনদ জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করাসহ নির্বাচনী আইনে আরো কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব করে নির্বাচন কমিশন। 

মঙ্গলবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনী মন্ত্রিসভায় ওঠে। বিদ্যমান আইনে ১৪টি নতুন ধারা যুক্ত সেগুলোকে অনুমোদন দেয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা। 

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার সময় আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাও হয়েছে বলে জানান তিনি। 

এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিষয়ে জেলাভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা অথবা আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এখন কোনটি থাকবে, তা সরকার ঠিক করবে।

এত দিন প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সাত দিন আগেই ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ইত্যাদি বিল) জমা দিতে হতো। 

এখন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগের দিন পর্যন্ত এসব বিলের কপি জমা দেয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর প্রার্থীদের টিআইএন সনদ এবং আয়করের রসিদ জমা দিতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমানে প্রতি জেলায় একজন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। তবে এখন থেকে প্রতি আসনে একজন রিটার্নিং অফিসার রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে পেশিশক্তির প্রভাব বিস্তার করলে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তা কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন বন্ধ করবেন, তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে সংশোধনীতে।

পাশাপাশি ব্যালট পেপারের পেছনে অফিসিয়াল সিল ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকলে তা গণনায় আনা যাবে না- এমন বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে। 

ভোটগণনার বিবরণী ও ব্যালট পেপারের হিসাব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাঁর এজেন্টকে দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভোট গ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা ও পরের ৪৮ ঘণ্টায় কেউ বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ, অস্ত্র ও পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োজিতদের ভয় দেখালে সর্বোচ্চ সাত বছর ও সর্বনিম্ন দুই বছর জেল-জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনের কার্ডধারী সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দিলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কেউ এই অপরাধ করলে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সমন্বয় ও সংস্কার শাখার সচিব বলেন, আজকে আইনের সংশোধনীর বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কী কী সংশোধনী থাকবে, তা পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হবে।

চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের একেবারে শুরুতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। তার আগেই আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নিলো সরকার।


একাত্তর/এআর