আগামী মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা

এপ্রিল মাস যেতে না যেতেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস ও আবহাওয়ার মডেলগুলো বলছে, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে। আর নতুন যে ঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই ঝড়ের নাম হবে মোচা।

মে মানেই ঘূর্ণিঝড়ের মাস। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে প্রতি বছরই চার-পাঁচটি করে ঘূর্ণিঝড় ভারতীয় উপকূলে হানা দিয়েছে। সেদিক দিয়ে ২০২২ কিন্তু ব্যতিক্রম। মাত্র তিনটি ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে এসেছে। তার মধ্যে কোনোটিই আমপান বা ইয়াশের মতো সাংঘাতিক রূপ নেয়নি।

বুধবার হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশংকা রয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে আরও কিছুদিন না গেলে এনিয়ে নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

প্রাথমিক পূর্বাভাস বলছে, সুমাত্রা সাগর বা আন্দামান সাগরে তৈরি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। সেই সময় বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সহায়ক হবে। ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হওয়ার পর সেটি উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। 

তবে ঝড়টি ঠিক কোথায় আঘাত হানবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওয়েদার অব কলকাতার কর্মকর্তা রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেছেন, ঝড়টি কবে কোথায় তৈরি হবে তা এত আগে বলা সম্ভব নয়। ঝড়টি তৈরি হলে তখন তার গতিপথ নির্দিষ্ট করে বলা যাবে। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ভারতের আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ-পূর্বে আন্দামান সাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে তা ১০ মে থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। 

ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে কিনা তা ১ মে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বঙ্গোপসাগরে ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক শক্তি জমা হয়ে গেছে। ফলে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে ও অনুকূল পরিবেশ পেলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার শঙ্কা বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, কবে কোথায় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে তা এত আগে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছি।


একাত্তর/এআর