আগামী দু'দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে কি-না, বা এর গতিপথ বাংলাদেশের দিকে হবে কি-না তা এখনও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আগামী তিন দিন কালবৈশাখীর হঠাৎ বিচ্ছিন্ন কিছু ঝড় ছাড়া আবহাওয়া থাকবে রৌদ্রজ্জ্বল তাই তাপমাত্রাও থাকবে বেশি। লঘুচাপ সৃষ্টির আলামত হিসেবে দেশের ২৭ জেলার উপর দিয়ে এই তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। লঘুচাপটি কয়েক ধাপ পেরিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে সেটির নাম হবে ‘মোখা’। এটি ইয়েমেনের দেয়া নাম। দেশটির একটি সমুদ্র বন্দর আছে এই নামে। তবে সাগরে ঝড় তরি হলেই জানা যাবে এর গতিপথ।
গেলো ৩২ বছরে প্রাক বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের ২৭টি ঝড়ের মধ্যে ১৭টি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে যার মধ্যে ১৪টি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম আর মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে অতিক্রম করেছে। এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিলো, মে মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি অথবা দুইটি লঘুচাপ সৃষ্টি সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
ঝড়টি তৈরি হবার আগ পর্যন্ত সারাদেশের তাপমাত্রা থাকবে বেশি। যা আগামী কয়েকদিন আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেস আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা। তিনি বলেন, হঠাৎ বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রার হেরফের হবে না। শুধু সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবার পর এর গতিপথের ওপর নির্ভর করবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। তবে তার জন্য আগামী তিন থেকে চার দিন অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, আরও অন্তত চার দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। এই সময় তাপমাত্রা বেড়ে তাপপ্রবাহ বিস্তার লাভ করতে পারে এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, অর্থাৎ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
একাত্তর/এসি