সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপটি

সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান সূত্র: উইন্ডি ডটকম

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি আগামী তিনদিন সাগরে অবস্থান করে শক্তি বাড়ানোর পর, ১৪ মে নাগাদ বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। 

ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মোখা’। দেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূল এই ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা আছে। উপকূলে আসার সময় এর গতি বাড়তে পারে আবার কমেও যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কোন দিকে অগ্রসর হবে সেটার ওপর নির্ভর করবে ক্ষয়ক্ষতি।

আন্দামান দীপপুঞ্জের কাছাকাছি সৃষ্টি হওয়া বড় সামুদ্রিক ঝড়টি বুধবার সকলের দিকে বাঁক নিয়ে ভারতের ভুবনেশ্বরের দিকে এগুতে শুরু করেছে। গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হচ্ছে। বুধবারই এটি আরো শক্তিসঞ্চার করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। 

তবে, আবহাওয়া মডেল বলছে, ঝড়টির গতিপথ এখন উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে থাকলেও শুক্রবার এটি উত্তর উত্তর পূর্ব বাঁক নিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। ১৪ তারিখ সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’।

বুধবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হচ্ছে। সেটি পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড় থেকে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়, বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র ঘূর্ণিঝড়, শুক্রবার দিবাগত ভোররাতে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এখন যে গতি তাতে ১৪ মে সন্ধ্যায় উপকূল অতিক্রম করতে পারে। 

সমুদ্রে বেশি সময় অবস্থান করার কারণে প্রতিনিয়তই শক্তি সঞ্চার করতে থাকবে ঘূর্ণিঝড়টি। ফলে এটি যখন উপকূলে আঘাত হানবে তখন এর কেন্দ্রে বাতাসের গতি হবে ঘন্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার, যাকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বলছেন আবহাওয়াবিদরা। 

আজিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় কোন দিকে অগ্রসর হবে সেটার ওপর নির্ভর করবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এখনো ঝড় তৈরি হয়নি, বৃহস্পতিবারের পরে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব, কোথায় আঘাত হানবে।

ঝড়ে মেঘ সঞ্চার করার প্রবণতায় দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যহত থাকবে। তবে ঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টপাতের সম্ভাবনা আছে দক্ষিণ আর পূর্বাঞ্চলে। তাই তখনকার তাপমাত্রাও হবে কিছুটা সহনশীল।

আবহাওয়াবিদ আজিজুর রহমান বলেন, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা ও পটুয়াখালীতে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং সারাদেশে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। সাগরে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় সারাদেশে বৃষ্টির পরিমাণ একেবারে কমে গেছে এবং বায়ুমন্ডলে আদ্রতা বেড়ে গেছে। ১২ মে থেকে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হবে এবং তাপপ্রবাহের প্রবণতা কমে আসবে।


একাত্তর/আরবিএস