মোখার প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়বে তিন ডিগ্রি

ঘূর্ণিঝড় মোখা মিয়ানমারের স্থলভাগে আঘাত করার পর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পূর্বদিকে সরে গেছে। ফলে বাংলাদেশের আকাশে এখন মেঘের দেখা নেই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী বাতাসের কারণেই এটি দ্রুত দূরে সরে গেছে। 

এই পূবালী বাতাসের কারণেই মেঘ সরে গিয়ে, সরাসরি সূর্যতাপ অনুভূত হবে। ফলে, দেশে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরো তিন ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বেশি প্রভাব পড়বে। 

তবে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকা বিভাগের বেশ কয়েকটি জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। যা  কালবৈশাখীর মতোই। এতে তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। ঢাকা শহরেও সন্ধ্যার পর বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে দেশের অভ্যন্তরে জ্বলীয় বাস্পের উপস্থিতি বেড়েছে। মেঘমুক্ত পরিস্কার আকাশ এবং রাতের চেয়ে দিনের ব্যাপ্তি বেশি থাকায় সূর্য়ের কিরণ খাড়াভাবে পড়ায় ভূপৃষ্ট তাপ শোষণ বেশি করছে।

ফলে মঙ্গলবার থেকে দিনের তাপমাত্রা দুই থেকে পাঁচ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে সারাদেশে আবারও তাপ প্রবাহ শুরু হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় প্রবণ মে মাসের আগামী ১০ দিন বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে তারা।

সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শেষে রোরবার বিকালে মোখা কক্সবাজার ও মিয়ানমারের উত্তর উপকূলে আছড়ে পড়ে। গভীর নিম্নচাপ হিসেবে মোখা রাতেই মিয়ানমারের সিটুয়ে আঞ্চলের অভ্যন্তরে অবস্থান করে। মোখা বর্তমানে গুরুত্বহীন এক লঘুচাপ আকারে সেখানেই অবস্থান করছে।

এ অবস্থায় দেশের উপকূল বা বঙ্গোপসাগরে মোখার আর প্রভাব নেই। ফলে চার সমুদ্র বন্দরের জন্য জারি করা ৩ নম্বর সর্তক সংকেত সোমবার উঠিয়ে নিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘুর্ণিঝড় মোখা অতি প্রবল ঘুর্ণিঝড় হলেও তিনটি কারণে ব্যাপক বিধ্বংসী রূপ ধারণ করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ ছিল, মোখার কেন্দ্রভাগ উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় জোয়ার ছিল। একইসাথে সক্রিয় ছিল পশ্চিমা বাতাস। ফলে মোখার কেন্দ্রে বাতাসের গতি প্রতিঘন্টায় গড়ে ১৮০ থেকে ২১৫ কিলোমিটারে উঠা-নামা করলেও জোরালো হতে পারেনি।

আবহাওয়াবিদ মল্লিক বলেন, যে কোন ঘুর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ডানপাশে বাতাসের গতি থাকে। সে হিসেবে অতিপ্রবল ঘুর্ণিঝড় মোখার কেন্দ্রের ডান দিকে মিয়ানমার থাকায় কক্সবাজার টেকনাফের তুলনায় মিয়ানমার অংশে বাতাসের গতি ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস সবই বেশি হয়েছে মিয়ানমারের অংশে। সব মিলিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হলেও মোখা বিধ্বংসী হতে পারেনি।


একাত্তর/এআর