প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগে যারা ভোট ডাকাতি করত, তারাই এখন অধিকারের কথা বলে বেড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ভোট ডাকাত যারা ছিল তারাই এখন অধিকারের কথা বলে। যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে, তাদের কাছে শুনতে হয় এসব কথা। মাঠের কথা মাঠে থাকবে। আমরা জনতার সাথে থাকবো। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করব, জনগণের জন্য কাজ করে যাবো।’
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে ভোটের অধিকার কবে ছিল? ৭৫ সালের পর থেকে ভোট চুরি, ভোট কারচুপি, ভোট নিয়ে খেলা, মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা হয়েছে।
‘আওয়ামী লীগেরই বরং নানামুখী, জনমুখী কার্যক্রমের ফলে মানুষের ভোটের অধিকার সম্পর্কে তাদের জানানো, সচেতন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’ -স্লোগান দিয়ে মানুষকে ভোট সম্পর্কে সচেতন আওয়ামী লীগই করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন করার জন্য আইন করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে ভুয়া ভোটার তালিকা হতো। ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়েছে। আইডি কার্ডসহ আরো যা আছে, সবই তো আওয়ামী লীগই করেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবস্থাও আমরাই করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে একটা গভীর ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে যেন আমাদের অর্জনগুলো নস্যাৎ হয়।
জনগণকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের চিন্তা করে, বাকিরা লুটেরার দল। তারা এদেশের মানুষের কল্যাণের চিন্তা করে না। সে কথা মাথায় রেখে ওই সন্ত্রাসের দল, খুনির দল, ওই যুদ্ধাপরাধীদের দল -যেন আর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ভোটের মাধ্যমেই তো আমরা সরকারে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস, আস্থাই হলো আমাদের একমাত্র শক্তি, আমাদের আর কোনো শক্তি নেই।
বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের একমাত্র বন্ধু বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে।
আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতারাও শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নয়নশীল বা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে সেটাও আমরা কার্যকর করে যাচ্ছি। খুব স্বাভাবিকভাবে এখন যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বা যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে তারা চেষ্টা করেই যাচ্ছে যাতে সব অর্জন নস্যাৎ হয়ে যায়।’
উদ্দেশ্য যদি সৎ হয়, তাহলে যে কোনো জায়গায় সাফল্য আসে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষের জীবনটা উন্নত করে দেওয়া। তাদের ভাগ্যটা পরিবর্তন করে দেওয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন- গরীব মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে। সেই হাসি ফোটানোটাই একমাত্র কর্তব্য। এবং সেটা আমরা করে যাচ্ছি।
‘আজ যখন একজন ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর দেওয়া হয়- সে ঘরটি পাওয়ার পর তার যে আনন্দ, হাসি আর চোখে যে সুখ দেখা যায় তার থেকে বড় পাওয়া বা সুখের আর কিছু নেই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বড় সফলতা হলো -যে মানুষটার জীবনে কিছুই ছিলো না- আমরা তাদের জন্যও একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পারছি।
‘বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাটা যাতে অব্যাহত থাকে, সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা হবে।’
এসময় সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হলো জনগণের সংগঠন, জনগণের কল্যাণেই আওয়ামী লীগ কাজ করে যাবে, এটা আমাদের একমাত্র প্রতিজ্ঞা। বাংলাদেশকে সোনার বাংলা করার যে স্বপ্ন, তা আমরা করবোই।
‘বাংলাদেশ আর বাংলাদেশেই মানুষই আমার পরিবার, আমি সেভাবেই কাজ করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ, সেটা ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। ধন সম্পদ কারো চিরদিন থাকেনা। মরলে ওই মাটির নিচেই যেতে হবে। কোনো কিছুই স্থায়ী না।
একাত্তর/আরএ/আরবি