জালানি সংকট নিরসনে কাতার থেকে আরও এলএনজি কিনতে দেশটির সরকারের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন পেট্রোবাংলা।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতি বছর অতিরিক্ত আরও ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমটি) এলএনজি পাবে, যা ২০২৬ সালে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার দোহায় পেট্রোবাংলা ও কাতারএনার্জির এলএনজি ট্রেডিং শাখার মধ্যে এই চুক্তি হয়েছে। কাতার এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আহমেদ আল-হুসাইনি এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার নিজ নিজ পক্ষে চুক্তি করেন।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও সাদ শেরিদা আল-কাবি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নসরুল হামিদ কাতারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি কাতারের এই সহায়তা আমাদের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন। আমরা জ্বালানি চাহিদা পূরণের মাধ্যমে আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করি।’
তিনি বলেন, কাতার এনার্জি, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ও কাতার এলএনজি নিশ্চিতে এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সফলভাবে স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি প্রকৃতপক্ষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মূল্যবোধ, অভিন্ন ধর্মীয় ভিত্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ দিনের দ্বিপক্ষীয় বন্ধনে যুক্ত দুই বন্ধু প্রতিম দেশের মধ্যে জোরালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি মাইলফলক।’
কাতারের কাছ থেকে এলএনজি কিনতে বাংলাদেশ সরকার প্রথম চুক্তি করে ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। ওই চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১ দশমিক ৮ থেকে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহ করে কাতার।
চুক্তির পর কাতার বাংলাদেশে প্রথম এলএনজি পাঠায় ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। গত বছরের ৩১ মে পর্যন্ত পেট্রোবাংলা ১৯১টি এলএনজি কার্গোর মাধ্যমে ১১.৭৪৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করেছে।
একাত্তর/আরবি