রাজধানীসহ সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপদাহ। সপ্তাহজুড়েই এই তাপদাহ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশবাসীকে এ সপ্তাহ পুরোটাই তীব্র তাপদাহের মধ্য দিয়েই কাটাতে হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাব বাংলাদেশের দিকে কম থাকায় তীব্র তাপদাহ অনুভূত হচ্ছে। তবে মৌসুমী বায়ু এমাসের মাঝামাঝি সময় প্রবাহিত হবে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগে মার্চ-এপ্রিল-মে পর্যন্ত তাপদাহ হলেও, এখন তা অক্টোবর পর্যন্ত হচ্ছে। এক যুগ ধরেই এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। গরম উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের।
সোমবার আবহাওয়া অফিস জানায়, এপ্রিল মাসে ৮৬ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। মে মাসে কম হয়েছে ৪৬ শতাংশ। তবে টেকনাফে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে মৌসুমী বায়ুর কারণে বৃষ্টিপাত হতে পারে।।
সারাদেশে গড়ে এই সময়ে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি স্বাভাবিক থাকার কথা। কিন্তু তা এখন পাঁচ থেকে ছয় ডিগ্রি বেশি হচ্ছে।
রোববার দিনাজপুরে স্বাভাবিকের চেয়ে ৯ ডিগ্রি তাপমাত্র বেশি ছিল।
রাজধানীতে তীব্র গরম অনুভূত হওয়ার ব্যাপারে আবহাওয়া বলেছে, এখানে তাপ শোষণ করার মতো যথেষ্ট উপকরণ নেই।
গত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপতাত্রা দশমিক সাত থেকে আট ডিগ্রি সেলেসিয়াস বেড়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দিনাজপুর জেলার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে। এতে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। হাসপাতালেও বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।
গরমে বেশি তরল খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশু আর বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: সেই বক্তব্য নিয়ে একাত্তরকে যা বললেন আইনমন্ত্রী
তারা বলছেন, গরমে ডায়রিয়া, নিউমনিয়া, সর্দি, কাশিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শংঙ্কাও। হাসপাতালগুলোতে বড়েছে রোগীর সংখ্যা।
তাপদাহে শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত রোগীদের পরিচর্যায় তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
একাত্তর/এসি