আগামী ২০ জুলাই আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে দেশের প্রথম বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখান থেকে আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ দৈনিক ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ তথ্য দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ৪২ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর দক্ষিণ সিটিতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্লান্ট স্থাপন করা হবে।
বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য তুলনামূলক বেশি হবে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২১ টাকায় কিনতে হলেও, এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্য হুমকিতে থাকা বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা হবে।
রাজধানীসহ দেশের সব সিটি কর্পোরেশনেই বর্জ্যের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হয় সিটি কর্পোরেশনগুলোকে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বর্জ্যের পরিমাণ চারগুণ বেড়েছে। এই বর্জ্য পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দেয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, আগামী ২০ জুলাই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এটি নির্মাণ হলে নগরীর পরিবেশ সুরক্ষাতেও এগিয়ে যাবে উত্তর সিটি।
আরও পড়ুন: ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়াই এখন আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য’
তিনি জানান, সিএফসি নামে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান, তাদের নিজস্ব বিনিয়োগে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং এরপর তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকার এই বিদ্যুৎ কিনে নেবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা উত্তর সিটির আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে, প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে এ বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একাত্তর/এসজে