বাংলাদেশকে ব্রিকস জোটে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চীন: মুখপাত্র

বাংলাদেশকে ব্রিকস জোটে স্বাগত জানাতে চীন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র।

মঙ্গলবার ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগদানের আবেদনের বিষয়ে বেইজিংয়ের এ অবস্থান প্রকাশ করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং।

এদিন রুশ মিডিয়া এজেন্সি রিয়া-নভোস্তিকে মুখপাত্র মুখপাত্র মাও নিং বলেন, জোটের বিস্তারের ব্যাপারে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এক্ষেত্রে সমমনা যেকোনো দেশকে ব্রিকস পরিবারে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্রিকস বহুপাক্ষিক অবস্থান সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই জোট বিশ্বজুড়ে শাসন ব্যবস্থার সংস্কার জোরালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করছে।

এর আগে, বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ব্রিকসের সদস্য হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ব্রিকসের বর্তমান চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেদি পান্ডোরকে পাঠানো হয়েছে।

সোমবারও (১৯ জুন) পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ব্রিকস জোটে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, তারা দাওয়াত দিলে আমরা নিশ্চয়ই জয়েন করব। ফরমাল চিঠি এখনও পাইনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন আরও বলেন, ব্রিকসের নেতারা চিন্তা করছেন। তারা সৌদি আরব, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশকে নিয়ে ভাবছে। বাংলাদেশকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল এবং তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশের ব্রিকসে যোগ দেয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ পাঁচটি: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে গত দেড় বছরে আরও বেশ কয়েকটি দেশ জোটটির সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, সদস্য হওয়ার আবেদনগুলো অবশ্যই বিদ্যমান সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই বিবেচনা করা উচিত।

গত শুক্রবার (১৬ জুন) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ব্রিকসের কার্যকারিতা ও কর্তৃত্বের কারণে অনেক দেশই এই ব্লকে যোগ দিতে আগ্রহী। 

গত সপ্তাহে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই র‌্যাবকভ জানান, আলজেরিয়া, মিশর, সৌদি আরব, ইরান ও আরব আমিরাতসহ প্রায় দুই ডজন দেশ জোটে যোগ দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়াও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।


একাত্তর/জো