দেশের সংবিধান মেনে যথাসময়ে নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ আবার ভোট দিলে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে তার দল।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ি নির্বাচন সময় মতো হবে। জনগণ ভোট দিলে থাকবো, না হলে চলে যাবো।’
গণভবনে বুধবার সুইজারল্যান্ড সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্যবস্থায় যেভাবে নির্বাচন হয়, সেভাবে হবে। একটি নির্বাচিত সরকার প্রধান আরেকজন নির্বাচিত সরকার প্রধান দ্বারা প্রতিস্থাপিত করবেন। এটা আদালতের রায় ও সংবিধান স্বীকৃত। দেশের মানুষকে বিবেচনা করতে হবে তার কী আবারো ২০০৭ এর মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান কী না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ উন্নতি চায়, না কী সন্ত্রাস ও ভোট চুরির যুগে ফিরবে, সেই সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। রূপকল্প ’২১ দিয়েছিলাম। ২০২৬-এ তা আরেক পর্যায়ে যাবে। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে, এটি কার করার সক্ষমতা আছে।’
গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই দেশ এগিয়েছে- মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক এটা আমাদেরই দাবি। আমরা জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি।’
যারা এদেশের ভাগ্য পরিবর্তন পছন্দ করেনা, তারা নানা কিছু বলছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কিছু লোক সব সময় পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেটা ছিল খুনিদের লক্ষ্য। সেখানে আমি চার চারবার ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নতি করেছি।
নির্বাচন এগিয়ে আসায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বাড়বে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। এখন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা নানা অপপ্রচার করে যাচ্ছে। নির্বাচন যত সামনে আসবে, তত এসব অপপ্রচার বাড়বে।
‘ক্ষমতায় থেকে লুটেপুটে খাওয়ার সুযোগ যেহেতু বন্ধ হয়ে গেছে, তাই অপপ্রচার। মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করছে এটা ঠিক। আমি দেশবাসীকে বলবো এসব অপপ্রচারে কান দিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না।’
আরও পড়ুন: শত ফুল ফুটুক, সুন্দরটি বেছে নেব: শেখ হাসিনা
এ সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, আমরাও সেসব ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
‘কোভিডের পর মরার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতো ইউক্রেন যুক্ত। অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতি হয়েছে। আমাদের দেশেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।’
মজুদদারদের সতর্ক করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু লোক ইচ্ছে করে মজুদ করে দাম বাড়ায়। যারা মজুদদারি করে কালোবাজারি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
‘মানুষের যেটাতে কষ্ট হয় সেটা আমরা লুকাই না। আমরা কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছি। এখন থেকে কাঁচামরিচ কিনে শুকিয়ে রেখে দেন। বর্ষায় খাওয়া যাবে।’
একাত্তর/আরবি