আলু ও কাঁচামরিচে কারসাজির গন্ধ পাচ্ছে ভোক্তা অধিকার

রপ্তানির পরও দেশে প্রতি বছর ৩০ লাখ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। তাই হঠাৎ আলুর দাম বাড়াকে অযৌক্তিক বলছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এনিয়ে কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সাথে বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

এদিকে কাঁচা মরিচের দাম বাড়ার পেছনে কোনো সুপার শপের কারসাজি আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। বেশি দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি করা সুপারশপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

কাচামরিচ ও আদা রসুনের অস্বাভাবিক দামের পেছনে কারণ খুঁজতে কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে বসে ভোক্তা অধিকার ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। চিনি, কাঁচা মরিচ, আদা ও রসুনের মূল্য এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সুপারশপ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

হঠাৎ করে সরবরাহ কমের অজুহাত দেখিয়ে বাড়ছে আলুর দামও। অথচ বিদেশে রপ্তানির পরও দেশে অন্তত ৩০ লাখ মেট্রিকটন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। কোন কারণ ছাড়া আলুর দাম বাড়ার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক।

তবে আলোচনা জুড়ে ছিলো কাচা মরিচের দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধান। ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালকের একের পর এক প্রশ্নে নাজেহাল অবস্থা হয় মরিচ ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, অস্থির বাজারের মধ্যে কয়েকটি সুপারশপ কাঁচামরিচ বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করেছে।

সফিকুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে ৪০০ টাকার কাঁচামরিচ ৬২০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছে সুপারশপগুলো। ওই দিন পাইকারি বাজার থেকে ৪২০ টাকা মধ্যে কাঁচা মরিচ সংগ্রহ করেছিল সুপারশপগুলো। তাদের দাম বাইরের বাজার প্রভাবিত করেছে। 

সুপার শপ স্বপ্ন ও মিনা বাজার ঈদের পর একদিনেই কাঁচামরিচের দাম বাড়ায় কেজিতে দুইশ’ টাকা। যেসব প্রতিষ্ঠান এভাবে দাম বাড়িয়েছে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ভোক্তা অধিকার। সন্তোষজনক কারন দেখাতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

বাজারের নিত্যপন্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে ভোক্তা অধিকারের জোড়ালো অভিযান শুরু হবে বলেও জানায় সংস্থাটি। তবে, জনসচেতনতা ছাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার লাগাম টানা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক। 


একাত্তর/আরবিএস