আজরা তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কথা বলেননি: আইনমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর দপ্তরে আনিসুল হক ও আজরা জেয়ার নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। ওই প্রতিনিধিদলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকের পর আইনমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা? জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। তারাও জিজ্ঞেস করেননি, আমাদেরও বলার প্রয়োজন হয়নি।’ 

দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লি থেকে ঢাকায় এসেছেন আজরা জেয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। 

আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষা নির্বাচনের জন্য আইনের যে অবকাঠামো আছে, সেই বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে। 

‘তারা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, তারা (মার্কিন প্রতিনিধিরা) নিরপেক্ষ। তারা সবদেশেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান। গতকালকেও যেমন আমাদের সচিব (গোলাম সারওয়ার) ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আইনগত অবকাঠামো বাংলাদেশের আছে। যেসব আইন এ বিষয়ে সহায়ক, সেগুলোর কথাও আমি উল্লেখ করেছি।’ 

তিনি বলেন, যেমন, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের যে আইনটি করা হয়েছে, সেটি নিয়ে কথা বলেছি। 

‘আমি এটিও বলেছি, গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের এমন আইন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার এ আইন করেছে। উপমহাদেশের অন্য কোনো দেশে এ আইন নেই, যোগ করেন আনিসুল হক।’ 

এ সময় দেশের আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানান আনিসুল হক। 

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কথা হয়েছে। এই আইন নিয়ে আমি আগেও যে কথা বলেছি, সেই কথাগুলোই আজ আমি তাদের বলেছি। আমি আগেও যে রকম বলেছি, এই আইন সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধিত হবে; আমি সেই কথাই তাদের প্রকারান্তরে জানিয়েছি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নাই। যেকোনো অপরাধের সুষ্ঠু বিচার হয়।’ 

সফর শেষে শুক্রবার সকালে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলটির। তবে বাড়তি কয়েক ঘণ্টা ডোনাল্ড লুর ঢাকায় থাকতে পারেন। 

মার্কিন প্রতিনিধিদলটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন নীতি নির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। 


একাত্তর/আরবি