যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব কমেছে: সালমান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভুল বোঝাবোঝির অবসান না হলেও দূরত্ব কমেছে বলে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বৃহস্পতিবার রাতে আজরা জেয়া গুলশানে সালমান এফ রহমানের বাসায় রাত ৯টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন। এরপর সংবাদ সম্মেলনে আসেন সালমান এফ রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ভিসানীতি ও র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবোঝির অবসান না হলেও দূরত্ব কমেছে।

বাংলাদেশে সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লুসহ একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বাসায় নৈশভোজে অংশ নেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, ভিসা নীতি, র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলাপ হয়েছে তাদের। এ সময় বুধবারের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এসময় বলেন, ‘খোলামেলা আলাপ হয়েছে। সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজরা জেয়ার দেখা হলো। দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠ করা যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েও আলাপ হয়েছে। 

বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান সালমান এফ রহমান। 

দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলেই র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছে আমি কবে যুক্তরাষ্ট্রে যাবো, ‘তাদের সরকারের কারও সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে তারা ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তারা কোনো কথা বলেন নাই। নির্বাচন নিয়ে তাদের একটাই কথা, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ইলেকশন। এই হলো তাদের কথা। এর বাইরে তারা কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলে নাই।

সালমান আরও বলেন, ‘ভিসা নীতি নিয়ে তারা বলেছেন, বিশেষ কাউকে টার্গেট করে এটা করা হয়নি। তাদের মতে, ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশের নির্বাচন ভালো হবে।’

এসময় প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, এটি নিয়মিত সফর। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলেও প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটা হাইপ ক্রিয়েট করা হয়েছে যে তারা বোধহয় বাংলাদেশে সফরে এসে আমাদের চাপে ফেলবে নতুন করে। কিন্তু এটা তাদের নিয়মিত সফরের অংশ, বিশেষ কোনও সফর নয়। শুধু বাংলাদেশের নির্বাচনের এজেন্ডা নিয়ে আসেননি তারা। একটি দেশ সফর শেষে তারপর বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশ সফর শেষে তাদের কেউ নেপালে যাবেন, কেউ দেশে ফিরে যাবেন।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলেছেন। মানবাধিকার মানে শুধু নির্বাচনকালীন বা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের বিষয় না। আমাদেরকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু অনেকে অপেক্ষা করে আছে কোনও অস্বাভাবিক কিছু ঘটবে। কিন্তু আবারও পুর্নব্যক্ত করছি, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা থেকে, নির্বাচনের আইন-বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। এই সফরে তারা একটি শব্দ বলেছে, পিছফুল।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময়ে বিএনপি জামায়াত দ্বারাই অতীতে শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে। তার পুনারাবৃত্তি যেন না হয় সে বিষয়ে সরকার সজাগ আছে। আমরা ধন্যবাদ জানাই মার্কিন প্রশাসনকে এই শব্দটি উচ্চারণ করার জন্য।’

গুলশানে সালমান এফ রহমানের বাসায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (উত্তর আমেরিকার উইং) খন্দকার মাসুদুল আলম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, হোয়াইট হাউজের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পরিচালক (সাউথ এশিয়া) ব্রায়ান লুটি, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারির বিশেষ সহকারী ব্রায়ান ওয়াকলি, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার সোফিয়া মুলেনবার্গ, পলিটিক্যাল কাউন্সেলর আর্তুরো হাইন্স।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ চায় যুক্তরাষ্ট্র

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আজরা জেয়া। তার বৈঠক হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও। সেখানেও তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে ভূমিকা দরকার, যুক্তরাষ্ট্র তা রাখবে।


একাত্তর/জো