দক্ষিণ
কোরিয়াকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সোমবার বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ুং-সিক বঙ্গভবনে পরিচয় পত্র দিতে গেলে রাষ্ট্রপ্রধান এ আহবান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নতুন দূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে যৌথ উদ্যোগ নিলে উভয় দেশ উপকৃত হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশের ইপিজেডসহ বিভিন্ন খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়াকে আরও বিনিয়োগের আহবান জানান।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অনেক দক্ষ কর্মী দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গভীরভাবে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে তিনি দুদেশের সরকারি-বেসরকারি খাতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশের জনশক্তির দক্ষতার প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
রাষ্ট্রদূত এ সময় বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতা চান।
এর আগে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র জমা দেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রেড রেংগলি।
নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সুইজারল্যান্ড সফরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে গত পাঁচ বছরে সুইজারল্যান্ড অব্যাহতভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যমান এ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাণিজ্য বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সুইজারল্যান্ড জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে চাপ অব্যাহত রাখবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ৫০ বছরে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে দুদেশের সম্পর্ক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তর/কেএসএইচ/