বৈশ্বিক মন্দার কারণে চাপে থাকলেও দেশের অর্থনীতি গতিশীল আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার গণভবনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ১৪ দলের সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকের শুরুতে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত চাল মজুত আছে।
গ্রামে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, গ্রামে কোনও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নাই।
তিনি বলেন, আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সমস্যায় পড়ে গেছি। যার ফলে স্যাংশন-কাউন্টার স্যাংশন। এরফলে কেনাকাটা, অর্থ আদানপ্রদান, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে।
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের একটা সিদ্ধান্ত, এখন সবাই বাংলাদেশকে সমীহ করে। পদ্মা সেতুতে দক্ষিণের মানুষের ভাগ্যের দুয়ার খুলে গেছে।
বিএনপির অনেক নেতার পাচার করা অর্থ বিদেশে ফ্রিজ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এসব অর্থ সরকার পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, দুর্নীতি করে তারেক-কোকোর পাচার করা ৪০ কোটি টাকা সরকার ফিরিয়ে এনেছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান জানান, মুশকিলটা হলো যেসব দেশে টাকাটা রাখে তারা ছাড়তে চায় না। বিএনপির অনেক নেতার টাকা ফ্রিজ করা আছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি পর্যায়ক্রমিকভাবে সেগুলো নিয়ে আসতে।
বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশটা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়- মূল আদর্শ থেকে বাংলাদেশের বিচ্যুতি ঘটে। সারা বিশ্বের কাছে দেশকে হেয় প্রতিপন্ন করে। তাদের দুঃশাসন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কারণেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০২৩ পর্যন্ত আমরা ক্ষমতায় আছি। আজ পর্যন্ত এটুকু দাবি করতে পারি এই সাড়ে ১৪ বছরে বাংলাদেশটা বদলে গেছে। নিশ্চয়ই আপনারা তা উপলব্ধি করেন।
আরও পড়ুন: তৃণমূলে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বৈঠকে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় পার্টি (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম প্রমুখ নেতারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সূচনা বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৪ দলের নেতাদের বক্তব্য শোনেন।
একাত্তর/জো