জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বের মডেল বাংলাদেশ

১৯৭০ সাল। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চল ভোলায় আঘাত হানে ভয়ংকর ‘সাইক্লোন ভোলা’। সেবার ঝড়ের আঘাতে এক নিমিষে ধ্বংস হয়ে যায় বহু ঘরবাড়ি। বঙ্গোপসাগর উপকূলজুড়ে মৃত্যু হয় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের।

বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল জলিল মৃধার বয়স ছিলো তখন ১২ বছর। তিনি ও তার ভাই-বোনদের পানিতে ভেসে যাওয়া ঠেকাতে তাদেরকে ঘরের ভেতর একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখেছিলেন তাদের বাবা-মা। ঘরের ভেতর কয়েক ফুট পানি ঢুকে একটি দেয়াল ধসে পড়লেও, সে যাত্রায় রক্ষা পায় তাদের পরিবার। তবে সবার ভাগ্য ততটা ভালো ছিল না।

বাংলাদেশের দক্ষিণে বরিশাল জেলার এক মোহনার পাশে দাঁড়িয়ে আব্দুল জলিল বলেন, সকালে চারপাশে অনেক লাশ ভেসে উঠছিল। মানুষ কাঁদছিল। গবাদি পশু মারা গিয়েছিলো। সেই কষ্ট কল্পনাও করতে পারবে না কেউ।

ঘূর্ণিঝড় ভোলা একটি ক্যাটাগরি ৩ ঘূর্ণিঝড় ছিল, যার বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ মাইল। এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়গুলোর মধ্যে একটি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও ঘন ঘন সুপার সাইক্লোন হচ্ছে। ১৯৭০ সালের তুলনায় পাঁচগুণ বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এমনভাবে তাদের মোকাবিলা করতে শিখেছে, যা ইউরোপের অনেক দেশ এখনও পারেনি। নিচু উপক্রান্তীয় ভূখণ্ড থাকা সত্ত্বেও, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে দুর্যোগে মৃতের হার এক শতাংশেরও কম।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির অগ্রগতি ইউরোপের পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত। ইউরোপের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আকস্মিক বন্যায় জার্মানিতে ১৮০ জন, ফ্রান্স, স্পেন এবং গ্রীসে ভয়াবহ দাবানলের কারণে অনেক মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড তাপদাহে ইউরোপে ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।

ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ এখন দুর্যোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের চেষ্টা করছে এবং তারা পরামর্শের জন্য বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজের ঝুঁকি ও দুর্যোগ বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ড. বায়েস আহমেদ বলেন, অনেক দেশ বাংলাদেশের সাফল্য থেকে শিক্ষা নেয়ার চেষ্টা করছে। তারা একটি বিশ্বমানের উদাহরণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

আমরা আগেভাগেই এর আগমন দেখতে পেয়েছিলাম

বাংলাদেশের সাফল্যের সর্বশেষ প্রমাণ গত ১৪ মে আঘাত হানা সাইক্লোন মোখা। এই শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মায়ানমারে ঘণ্টায় ১৬০ মাইল বেগে আঘাত হানে। মোখার আঘাতে মিয়ানমারে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। 

তবে ক্যাটাগরি ৫ ঘূর্ণিঝড়ের সংস্পর্শে আসা সত্ত্বেও এবং ১৩ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশে কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাইক্লোন প্রিপারেডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) পরিচালক আহমেদুল হক বলেন, ‘আমরা আগেভাগেই এর আগমন দেখতে পেয়েছিলাম। এটি আমাদের সময়ের আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম করে’।

তিনি জানান, সরকার এপ্রিলের শেষের দিকে প্রাক-ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণ শুরু করে। ৪ মে নাগাদ উপকূলীয় লোকজন সতর্কবার্তা পেতে শুরু করে। ৯ মে উপকূল থেকে এক হাজার মাইল দূরে নিম্নচাপটি তৈরি হওয়ায় আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা ঘোষণা করে।

মোখা আঘাত হানার দুই দিন আগে ১২ মে রাতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয় এবং সাড়ে সাত লাখ লোককে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং অস্থায়ী আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।

ড. বায়েস আহমেদের মতে, যদি বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা উন্নত না হতো, তাহলে মোখার মতো ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারতো, বিশেষ করে দেশটিতে অধিক জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহায়তায় সরকার ঘূর্ণিঝড় ভোলার পরে ১৯৭২ সালে দেশে অত্যন্ত কার্যকরী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়। সাথে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্রযুক্তির ব্যাবহার, দেশব্যাপী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, সাইক্লোন শেল্টার এবং ফ্রন্টলাইন ও কমিউনিটি ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য গণপ্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণভিত্তিক পদক্ষেপের পরিবর্তে দুর্যোগ পূর্ববর্তী চারটি মৌলিক স্তম্ভ ব্যবহার করতে একটি সক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিলো- প্রস্তুতি, প্রশমন, প্রতিক্রিয়া এবং পুনরুদ্ধার।

ঢাকাস্থ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক সালেমুল হক বলেছেন, এই কয়েক বছর ধরে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা তৈরি করেছি।

এই প্রচেষ্টা শুরু হওয়ার আগে, বাংলাদেশে মাত্র তিনটি উপকূলীয় রাডার ছিল, যা উপকূল থেকে ২০০ মাইল দূরের ঘূর্ণিঝড় ট্র্যাক করতে সক্ষম ছিলো। এখন এখানে ২৫৬টি স্থানীয় আবহাওয়া স্টেশন রয়েছে যা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ১৯৩টি সদস্য দেশের তথ্যসহ ভবিষ্যৎ ঝড় শনাক্তকরণ এবং পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।

প্রয়োজনে টিভি এবং রেডিও সম্প্রচার, এসএমএস বিজ্ঞপ্তি এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সবচেয়ে প্রত্যন্ত এবং অরক্ষিত মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য ৭৬ হাজারেরও বেশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বাহিনী মেগাফোন এবং সাইরেনসহ উপকূলীয় গ্রামে যান, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কীকরণ পতাকা উত্তোলন করেন এবং এমনকি সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন বাড়িগুলোর দ্বারে দ্বারে যায়৷ বাসিন্দাদের ১৫ হাজারটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৭০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৪টি।

১৯৭৬ সালে ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর আব্দুল জলিল মৃধা একজন স্বেচ্ছাসেবক হয়ে ওঠেন। এখন তিনি বরিশালে ইউনিট টিম লিডারের পাশাপাশি একজন কৃষক।

তিনি বলেন, আমি এটা করতে শুরু করেছি মানুষকে বাঁচাতে। অনেকে মারা গেছে কারণ আমরা প্রস্তুত বা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না।

স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক সতর্কবার্তা প্রচার করা, গ্রামবাসীদের নিকটতম আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া, অভাবীদের উদ্ধার করা, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় এবং পরে শুকনো খাবারের মতো জরুরি সরবরাহ বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয়।

আব্দুল জলিলের সাথে কাজ করা ৩৩ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল হোসেন ২০২২ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের সময় তিনজন বয়স্ক লোককে বাড়ি থেকে বের করে আনতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি অন্যদের সাহায্য করলে ঈশ্বর আমাকে সাহায্য করবেন।

বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। জরুরি ইভেন্ট ডেটাবেস অনুসারে, গত বছর বিশ্বব্যাপী ৩৮৭টি প্রাকৃতিক বিপদ এবং বিপর্যয় রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে ৩০ হাজার ৭০৪ জন মারা গেছে এবং ১৮৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হারিকেন ইয়ানের আঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়, পাকিস্তানে বন্যায় এক হাজার ৭৩৯ জন মারা যায়, আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের ফলে এক হাজার ৩৬ জন নিহত হয়েছে এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ম্যাগিতে ফিলিপাইনে ৩৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছে।

জাতিসংঘ ধারণা করছে, যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৫৬০টি মাঝারি বা বড় আকারের বিপর্যয় ঘটবে।

অধ্যাপক হক বলছেন, এটি একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশগুলোর জন্যও, যখন আপনি হারিকেন ক্যাটরিনার মতো বিপর্যয়ের কথা ভাবেন। আমরা আমাদের জ্ঞান ভাগ করে নিতে খুব খুশি। আমরা জানি কীভাবে জীবন রক্ষা করতে হয়।

২০২২ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘পৃথিবীর প্রত্যেককে’ রক্ষা করার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দেশেই কোনো আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নেই। গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের একটি প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ধরনের সিস্টেমে ৮০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করলে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো যাবে।

ইতালীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে একটি ভয়াবহ তাপপ্রবাহের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা এই সপ্তাহে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছবে।

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপ লা পালমাতে দাবানলে চার হাজার ৬০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা ইউরোপ জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয়, যেমনটা ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ ছিলো না। এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক এবং ব্যয়বহুল।

বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, আরও কার্যকর অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি গ্রীষ্মে প্রায় ৬৮ হাজার ইউরোপীয় প্রচণ্ড গরমে মারা যাবে।

ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি অনুমান করে, ১৯৮০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিপর্যয়গুলো বছরে ১৩ বিলিয়ন ইউরো অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে, যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব পেটেরি তালাস বলছেন, এই প্রধান জলবায়ু ঘটনার সাথে সম্পর্কিত চরম আবহাওয়ার প্রারম্ভিক সতর্কতা এবং পূর্বাভাসমূলক পদক্ষেপ জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর জন্য অত্যাবশ্যক।

সৌভাগ্যক্রমে, ইউরোপের ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এপ্রিলে যুক্তরাজ্য চরম আবহাওয়া সম্পর্কে জরুরি বার্তা সম্প্রচারের জন্য প্রথমবারের মতো একটি সিস্টেম পরীক্ষা করে। মে মাসে গ্রীক রাজধানী এথেন্সে নতুন প্রধান তাপ কর্মকর্তা ঘোষণা করা হয়েছে, যা মারাত্মক তাপের বিরুদ্ধে শহরের প্রতিরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি উদ্ভাবনী ভূমিকা। প্যারিস, মিলান এবং রটারডামের মতো অন্যান্য শহরগুলো চরম তাপ অ্যাপ চালু করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপর্যয়ের জন্য ইউরোপকে প্রস্তুত করতে আরও বেশি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা প্রাকটিক্যাল অ্যাকশনের বন্যা প্রতিরোধী প্রকল্পের নেতৃত্ব দেয়া তামান্না রহমানের মতে, ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস, আগুন এবং আকস্মিক বন্যার জন্য সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করে বাংলাদেশ দেখিয়েছে একটি স্মার্ট, অত্যাধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থা কী পরিবর্তন আনতে পারে। এই মডেল মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। এখন আমাদের এটিতে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে হবে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

 

একাত্তর/আরএ