বিদেশি বিনিয়োগ ঠিক রাখাতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে একটি প্রতিনিধি দল কাজ করছে। তারা শিগগিরই রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইইউ বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল দেবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে।
মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এদিকে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোটকেন্দ্রে কাউকে মারার অধিকার কারো নেই। নির্বাহী বিভাগসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। এগুলোর কারণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। ইইউ এর এই বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, গ্রেপ্তার অবস্থায় মৃত্যু নিয়ে কথা হয়েছে। একই সঙ্গে আমরা মানবাধিকার শক্তিশালী করা নিয়ে কথা বলেছি।
চেয়ারম্যান জানান, এ নিয়ে তারাও কাজ করছেন। শ্রমিক নেতা শহীদুলসহ সাম্প্রতিক সব হত্যা নিয়েও কথা হয়েছে। তবে নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি কথা না হলেও নির্বাচনের আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে।
বৈঠকে গিলমোরের সঙ্গে ছিলেন ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) রাজনৈতিক উপদেষ্টা ভিক্টর ভিলিক। আরও অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত এইচ ই চার্লস হোয়াইটলিসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।
এরপর দুপুরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন গিলমোর। সন্ধ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ইমন গিলমোর। এ সফরে গিলমোর রোহিঙ্গা ও মানবাধিকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাংলাদেশে ইমোন গিলমোরের এটি দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১৯ সালের জুনে তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন। ওই সফর শেষে গিলমোর বাংলাদেশে শ্রম অধিকারসহ মানবাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা বলেছিলেন।
এবার ছয় দিনের বিশেষ সফরে ঢাকায় এসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ প্রতিনিধি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় থাকাকালে গিলমোর রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এছাড়া অন্য অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।
একাত্তর/এসি