‘সংঘাত-সহিংসতা রাজনৈতিক সমাধান আনবে না’

দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সংঘাত ও সহিংসতা কোনো রাজনৈতিক সমাধান আনবে না বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। এক্ষেত্রে বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদেরকেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে বলে অভিমত তাদের। 

শনিবার বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজনেরা এমন মত দিয়েছেন।

বৈঠকে এডিটরস গিল্ডের সভাপতি একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচী চলছে। জনদুর্ভোগও চলছে। বর্জনে অর্জনের চেষ্টা আর ক্ষমতা ধরে রাখা এই দুই ধারা চলছে। সংঘাত সমাধান আনবে না, এটা বিদেশীদের সুযোগ করে দিবে। তবে জনগণ তাদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে দিবে না। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, আমাদের সামনে নির্বাচন কিভাবে হবে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। কমিশন যখন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে তখন থেকে কমিশন নিয়ে কথা হচ্ছে। নির্বাচনে বাইরের প্রভাবটা অন্তত  গুরুত্বপূর্ণ। 

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বিদেশীরা যেভাবে নাক গলাচ্ছে সেটা কোনও স্বাধীন দেশ সহ্য করতে পারে না। আমরা সঠিক পথেই আছি। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, তাই তারা আসতেছে না। কিন্তু এজন্য নির্বাচন হবে না তা তো হতে পারে না। 

ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, বিদেশী রাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চাওয়ায় মনে হচ্ছে বাংলাদেশ অসহায় অবস্থায় আছে। কিন্তু এমন কোনও পরিস্থিতি কিন্তু নেই দেশে। দেশের বড় দলগুলো অংশ না নিলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না। তাহলে কি হবে দেশে নির্বাচন কি হবে না? 

তিনি আরও বলেন, তবে যে যাই বলুক না দেশে নির্বাচন করতে হবেই। জাতীয় আর আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার হবে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা কি হবে তা নিয়ে আমাদের এখন থেকেই ভাবতে হবে। এই আদর্শের লড়াইয়ে সমঝোতা হবে কিনা তা আলোচনার বিষয়। 

পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (পিআরআই)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পরবর্তীতে যেই সরকারই আসুক তাদের জন্য অর্থনৈতিক অবস্থাটা স্থিতিশীল রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, আমরা ওপেন ইকোনমিতে আছি। নানা কারণেই বিদেশীদের সাথে যোগাযোগ তো বন্ধ করার সুযোগ নাই। ভারত আমেরিকা যদি এক সাথে বাংলাদেশকে সমর্থন করে তবে আমাদের সমস্যা কম হবে, যদি তারা এক না হয় তবে আমাদের উপর তারা সমস্যা করবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমেরিকার গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশে এখন আর আগের মতো নেই। তাই তারা অন্যদের যুক্ত করে নিজেদের প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে বর্তমানের বৈশ্বিক অবস্থানের কারণেই এতো গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব সময়ই সমাধান জনগণের কাছে। বিদেশীর দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদের সমাধান করতে হবে। 

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবার। কারণ প্রায় প্রতিদিন বিদেশী তত্পরতা বাড়ছে, যা আগে কোনও নির্বাচনের সময় দেখা যায়নি। অন্য দেশের নির্বাচন নিয়ে এতো আগে বিদেশী তত্পরতা দেখা যায়নি। 

ফারুক ফায়সাল বলেন, বিদেশী রাষ্ট্রগুলো যা বলছে তা বাংলাদেশের স্বার্থে তো বলেনি। ওরা বলছে এক কথা কিন্তু ওদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে পারিনি আমরা। যে আইনগুলো হয়েছে তা পুরাপুরি এখনো সহায়ক নয়। যেই আসুক আগামীতে ক্ষমতায় তার জন্য সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরতে হবে। একটা সরকারের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা ভালো না।


একাত্তর/এসজে