ডিসি নিয়োগ নিয়ে যা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনে দলীয় বিবেচনায় কোনো নিয়োগ বা পদায়ন হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, নতুন ডিসি নিয়োগে পক্ষপাত নেই, যোগ্যতা অনুযায়ী সেরা কর্মকর্তাদের ডিসি বানানো হচ্ছে।

রোববার সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান। 

সম্প্রতি তিন দফায় ২৮ জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিবর্তন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনের দিনে ‘কঠিন পরিস্থিতি’ সামাল দিতে পারবে না- এমন সব কর্মকর্তাদের মাঠ প্রশাসন থেকে তুলে আনা হয়েছে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, মাঠ প্রশাসন দেখে কেবিনেট ডিভিশন (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ)। যারা মাঠে কাজের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেনি, কারও কারও বিরুদ্ধে মাঠ প্রশাসনে অভিযোগ ছিল, তাই মাঠ থেকে কয়েকজন ডিসিকে তুলে এনেছি। মাঠে যোগ্য অফিসার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে দু-একজন ফেইল করে, এদের সংখ্যা কিন্তু কম। তারা ওখানে (ডিসি) গিয়ে অ্যাডজাস্ট করতে পারছেন না। অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, যেটা আমাদের অনেক সময় বিব্রতও করে। সেসমস্ত ক্ষেত্রে আমরা তুলে নিয়েছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়নের পর তুলে নেয়া হয়। একটি মানুষকে যখন ডেস্কে কাজ করতে দেখেন, তার এক ধরনের পারফরমেন্স থাকে। মাঠের কাজের ধরন কিন্তু ভিন্ন রকম। যাদের তুলে নেওয়া হয়েছে তাদের ২০ জন ছিল ২২ ব্যাচের।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা শেষ হয়েছে। এ জন্যই তাঁদের উঠিয়ে আনা হয়েছে এবং তাঁদের জায়গায় নতুনদের পদায়ন করা হয়েছে। ডিসির পদটি উপসচিব পদমর্যাদার। ২৬ ও ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক হিসাবে দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এ মাসের মধ্যেই তারা যুগ্ম সচিব হয়ে যাবেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে কিছু অভিযোগ ছিল, জনমনে বেশকিছু অস্বস্তি আছে, সেজন্য আমরা তুলে নিয়েছি। দু-একজনকে তুলেছি, মনে হয়েছে তারা ডেস্কে যেভাবে কাজ করেছে, ওখানে গিয়ে সেভাবে পারছে না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী সেরা কর্মকর্তাদের ডিসি বানানো হচ্ছে। আর বেছে বেছে সেরা কর্মকর্তাদের মন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) পদে নিয়োগ দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। কেউ যাতে ইচ্ছেমতো পিএস নিয়োগ দিতে না পারেন, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ গ্রহণ করে পিএস দিয়েছেন। কোনো মন্ত্রী জানেন না, কোন পিএস আসবেন। এখানে নিয়োগ দেয়ার সময়ে দেয়া হয়েছে সেরা কর্মকর্তাদের। কারণ, তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন, তিনি যাতে যথাযথভাবে সাহায্য করতে পারেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের সময় পুলিশসহ সব বাহিনী ইসির অধীনে

ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারের একটি নীতি রয়েছে। সেটি হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ একটি নির্বাচন উপহার দিতে চাই। সেটির জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীও সেটি ইতিমধ্যে ব্যক্ত করেছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও বলেছেন। আমরা সেদিকে যাচ্ছি। সেটির জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া আছে- অত্যন্ত সচেতন ও সুন্দরভাবে কাজ করবেন। পেশাদারিত্ব দেখাবেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই। অফিসারদের অতিকথন বন্ধ রাখতে বলেছি। সংযত হয়ে মনোযোগ দিয়ে দেশের কাজ করতে বলেছি। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার কমিশনকে সহায়তা করবে মাত্র। 


একাত্তর/এসি