জলের গানের রাহুলের বাসায় ম্যাক্রোঁ

ফোক-ফিউশন ধারার গানের দল ‘জলের গান’-এর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম শিল্পী রাহুল আনন্দের বাসায় সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশ সফররত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী রাহুল আনন্দের বাসায় প্রায় পৌনে দুঘণ্টা সময় কাটান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি রাহুলের স্টুডিওতে গান শোনেন। ম্যাক্রোঁকে একতারা উপহার দেন রাহুল।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা সফরের আসেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিন বছরের মধ্যে কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর।

রাহুল আনন্দের গান শুনছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ইমেজ: সংগৃহীত

ঢাকা পৌঁছেই হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সম্মানে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৈশভোজে অংশ নেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

নৈশভোজ শেষে রাত বারোটার দিকে রাহুল আনন্দের ধানমন্ডির বাড়িতে যান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ভিভিআইপি অতিথির আগমন উপলক্ষ্যে রাহুলের বাড়ির সাজানো হয়েছিল বেশ ভালোভাবেই।

রাহুল আনন্দের বাসায় হাজির হয়ে বাংলার লোক-ঐতিহ্যের আবহে ডুবে ছিলেন ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে প্রথমে ফকির লালন সাঁইয়ের ‘আর কি বসবো এমন সাধুর সাধবাজারে/না জানি কোন সময় কোন দশা ঘটে আমারে’ গেয়ে শোনান রাহুল আনন্দ।

এরপর তিনি পরিবেশন করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’। রাহুল আনন্দ যে একতারা বাজিয়ে গান গেয়েছেন সেটি উপহার দেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে।

জলের গানের রাহুলের বাসায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ইমেজ: সংগৃহীত

রাহুলের বাড়িতে গিয়ে জলের গানের স্টুডিওতে বসেন ম্যাক্রোঁ। রাহুল তাকে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, বাজিয়ে শোনান।

যে একতারা বাজিয়ে গান গান রাহুল সেটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে উপহার দেন। ম্যাক্রোঁ উপহারটি নিয়ে বাজানোর চেষ্টাও করেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জলের গানের রাহুলকে একটি কলম উপহার দেন।

যেকোনো দেশে সফরকালে স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এর অংশ হিসেবে ঢাকায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের তত্ত্বাবধানে রাহুল আনন্দের স্টুডিও পরিদর্শন করলেন।

রাহুলের বাড়ির আড্ডায় ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া গ্রোজ্যঁ।