রাতে ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করবে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর টিকা রপ্তানির ওপর দেশটি নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি থমকে যায়। অবশেষে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও দেশব্যাপী করোনা প্রতিরোধে টিকা দেয়ার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। 

শুক্রবার (২ জুলাই) রাতে ১২ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাতে পৌঁছাবে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা। এসবের মধ্যে কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মর্ডানার তৈরি ২৫ লাখ ডোজ টিকা এবং চীনের কাছ থেকে কেনা সিনোফার্মা টিকার ২০ লাখ ডোজ। 

দুই ধরনের টিকা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে দুই দফায়। রাত সাড়ে ১১টায় মর্ডানার ১২ লাখ ডোজ টিকা পৌঁছাবে। এক ঘন্টা পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌঁছাবে সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ টিকা। পরের দিন ভোর পাঁচটার দিকে সিনোফার্মার ৯ লাখ ডোজ এবং সকালের দিকে মর্ডানার ১৩ লাখ ডোজ পৌঁছাবে। 

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে দেশে অষ্টম টিকা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। 

ট্রায়ালে মডার্নার টিকার কার্যকারিতা দেখা গেছে ৯৪ শতাংশেরও বেশি। ফাইজারের টিকার মতোই মডার্নার এই টিকা এম-আরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি।

মডার্নার টিকা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। তবে, এটিকে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

দুই ডোজ মডার্নার টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়া যাবে বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিনোফার্মের অধীন বেজিং বায়োলজিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের টিকা মানবদেহে করোনা প্রতিরোধে ৭৯.৩৪ শতাংশ কার্যকর। 

তবে, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের ফলাফলের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, এই টিকা ৮৬ শতাংশ কার্যকর।

সিনোফার্মের টিকার কোটি কোটি ডোজ মজুদ গড়েছে চীন। এই টিকা সেই দেশ ছাড়াও এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশে রপ্তানিও করছে।

টিকার পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বাংলাদেশ গত ২৬ এপ্রিল প্রথম ডোজের টিকাদান বন্ধ করে দেয়। টিকার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিও ৫ মে থেকে স্থগিত করে দেওয়া হয়।

এরমধ্যে, চীন থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকার মাধ্যমে ১৯ জুন থেকে আবারো সীমিত আকারে সরকার প্রথম ডোজের টিকাদান শুরু করে।

তবে, আরও ৪৫ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া নিশ্চিত হয়েই, বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারাদেশে আবারও করোনা ভাইরাসের টিকা কার্যক্রম শুরু করে সরকার। 

এই পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে চীনের সিনোফার্মের টিকা এবং শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকার সাত কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে। মর্ডানার টিকার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, দুই একদিনের মধ্যে হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

ঢাকার সেসব কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেয়া হবে সেগুলো হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

আর, সিনোফার্মের টিকা সারাদেশের ৪০টি কেন্দ্রে থেকে দেয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ, জেলা সদর হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল।

এসব কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নিবন্ধন পাওয়া ব্যক্তিরা প্রথম ডোজ টিকা নিতে পারবেন।


একাত্তর/আরএইচ