যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বন্দি বিনিময় আলোচনার পর্যায়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের সাথে বন্দি বিনিময়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

বৃহস্পতিবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়টি যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাপ হয়েছে। বন্দি বিনিময় করার একটি চুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এটি আলোচনার পর্যায় রয়েছে। কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এখনো বিস্তারিত ঠিক হয়নি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য পঞ্চম কৌশলগত সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুর্গাপূজার মণ্ডপ না বাড়ানোর আহবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

আসন্ন দুর্গাপূজায় গত বছরের চেয়ে পূজামণ্ডপ যাতে না বাড়ে সে বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। 

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। প্রতি বছরই পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ছে। এবারও তা বাড়বে বলে আমাদের কাছে খবর আসছে। আমরা বলেছি, গত বছর যতগুলো পূজামণ্ডপ ছিলো এবারও যেন সেখানেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। মণ্ডপের সংখ্যা আর না বাড়াতে আমরা অনুরোধ করেছি। তারা বলেছেন, চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন এবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো থাকবেই। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর থাকবে।

গত বছর সারাদেশে মোট ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপ ছিলো জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার এ পর্যন্ত ৩২ হাজার ৪০৭টির ঘোষণা আমরা পেয়েছি। সে হিসাবে এবার ২৩৯টি বেড়ে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, এ সংখ্যা আর যেন না বাড়ে। পূজামণ্ডপ বাড়লে সেখানে নিরাপত্তারও প্রশ্ন আছে।

পূজামণ্ডপগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি পূজা কমিটিগুলো যেন প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী রাখে। আমাদের দুই লাখ আনসার সেখানে মোতায়েন হবে।

তিনি বলেন, কোনো পূজামণ্ডপ থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ সহযোগিতার জন্য ফোনকল এলে তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা দিতে এবং স্পেশাল কেয়ার নিতে বলে দেওয়া হয়েছে। এবার পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরার সঙ্গে আইপি ক্যামেরাও সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে কেউ যেন গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য বিশেষ নজরদারি করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তর ও জেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে।

এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরে আইন পাস হয়েছে। কবে এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আসছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা সময় লাগবে। মাত্র আইন হলো। আইন অনুযায়ী যেসব কর্মকাণ্ড সেগুলো হতে একটু সময় লাগবে। যে পর্যন্ত না হবে সে পর্যন্ত পুরোনো ব্যবস্থাই চালু থাকবে। পুরোনো ব্যবস্থায়ই এনআইডি সংশোধন কিংবা নতুন করে এনআইডি দেওয়া হবে, যারা করছেন তারাই করবেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ফুল ফেজে দায়িত্ব নিতে পারবো তখন ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেবো যে আজ থেকে আমরা পুরোপুরিভাবে এনআইডির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলাম।