বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরাও থাকবেন বলে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে বলেন, আজ থেকে (২২ সেপ্টেম্বর) স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুন্ন করার জন্য দায়ী বা জড়িত থাকা বাংলাদেশি ব্যক্তিদের উপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
তবে, এই নীতির আওতায় কারা করা নিষিধাজ্ঞায় আওতায় পড়েছেন, তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মিলার বলেছেন, যারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে জানানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে গেলো এপ্রিল মাসে বাংলাদেশকেন্দ্রিক যে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করা হয়েছিলো, সেটির প্রয়োগ শুরু করলো যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই মুখপাত্র জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে রয়েছেন, সরকারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় তার সমর্থনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুন্ন করার জন্য দায়ী এই ব্যক্তিদের স্বজনরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এই নীতির অধীনে ভিসার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।
ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমাদের আজকের পদক্ষেপগুলো শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের লক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
এর আগে গত ২৭ মে বাংলাদেশকে উদ্দেশে করে ভিসা নীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করলে সেই ব্যক্তি ও তার পরিবারের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয় সে সময়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারে প্রতিশ্রুতিকে সহায়তা করতে এ ভিসা নীতির ঘোষণা বলেও জানিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।