ভিসানীতি নিয়ে হাসের বক্তব্যের সঙ্গে ‘দ্বিমত’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের

বাাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপরও ভিসানীতি প্রয়োগ হতে পারে; মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটাস হাসের  এমন মন্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।

সোমবার ওয়াশিংটনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের ওপরই কেবল ভিসা নীতি কার্যকর হয়েছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে ভিসা নীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, গণমাধ্যমের ওপরও এটি প্রয়োগ হতে পারে।

তবে সোমবার ওয়াশিংটনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কাদের ওপর ভিসানীতি প্রযোজ্য হবে সেটি এরইমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের ওপরই এটি প্রযোজ্য হবে।

মিলারের কাছে প্রশ্ন রেখে সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নতুন ভিসা বিধিনিষেধে মিডিয়া ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন এবং এই বিষয়টি ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আপনি কি মনে করেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা যদি গণমাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহবানকে দুর্বল করবে?

জবাবে মিলার বলেন, ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড গোপনীয়, ফলে সুনির্দিষ্ট সদস্য বা ব্যক্তি -কার জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে, তার ঘোষণা তারা দেননি। তবে তারা এই বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নতুন ভিসা নীতি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছেন, ভিসানীতি ঘোষণার অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র আলাদা করে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে।

গত ২৪ মে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষণায় বলা হয়েছিলো, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘোষণার প্রায় চার মাস পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনীতিকসহ কয়েকটি শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটি জানায়, এই ভিসা নীতির কারণে বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মিলার বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো পক্ষ নেয়া নয়, বরং বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করাই ভিসা নীতির উদ্দেশ্য।

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই বলে স্পষ্ট জানান মিলার।