রাত পোহালেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের প্রাথমিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের সব আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন এই টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে যাত্রী সেবা, সব কিছুই হবে আন্তর্জাতিক মানের। মোট ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ রাখা হচ্ছে এই টার্মিনালে। যাত্রীদের জন্য থাকছে এক সাথে এক হাজার ২৩০টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। লাগেজ ব্যবস্থাপনাসহ পুরো ইমিগ্রেশন সিস্টেম চলবে আধুনিক সফটওয়্যারে।
২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিত্যক্ত ভূমিতে শুরু হয় আধুনিক এই টার্মিনাল নির্মাণের কাজ। তিন মাস পরেই করোনা অতিমারি। কিন্তু কোন কিছুতেই একদিনের জন্যও কাজ থেমে থাকেনি। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গ মিটার এলাকাজুড়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। কাজ শেষ হয়েছে ৯০ শতাংশ।
নতুন এই টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। কর্তৃপক্ষ বলছে বর্তমানের দুটি টার্মিনালে ৮০ লাখ যাত্রীর সেবা দেয়া যাচ্ছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে তা আরও ১ কোটি ৬০ লাখ বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী বিমান এয়ারবাস A380 এর ব্যবহার উপযোগী দুইটিসহ মোট ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই টার্মিনালে। তিন তলা পার্কিং ভবনে যাত্রীদের জন্য থাকছে একসাথে ১২৩০টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। লাগেজ ব্যবস্থাপনাসহ পুরো ইমিগ্রেশন সিস্টেম করা হবে সবশেষ আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজি ওয়াহিদ উল আলম বলেন, যে কোনো দেশের রাজধানীর এয়ারপোর্ট সেই দেশের মেইন গেটওয়ে। দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সবই এখানে থাকা উচিত। এখান থেকেই মানুষ অনেক কিছু ধারণা করে নেয়।
তবে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিমানবন্দরের সাথে সুলভ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের কোন গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। প্রাথমিক উদ্বোধনের পর এই টার্মিনালের পুরো সেবা উপভোগ করতে ২০২৪ সালে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যেই গণপরিবহনের লাগসই ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা তৈরির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
কাজি ওয়াহিদ উল আলম বলেন, শুধু টার্মিনাল খুলে দিলেই হবে না। সে পর্যন্ত যাওয়া এবং অন্যান্য বিষয়গুলোও নজরে রাখতে হবে।
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের যিনি নকশা করেছিলেন সেই স্থপতি রোহানি বাহারিনের নকশায় নির্মাণ হয়েছে স্বপ্নের তৃতীয় টার্মিনাল। মোট ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে জাপানি সহযোগী সংস্থা জাইকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। আর বাকি ৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে, জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং কোম্পানি।